গাভাস্কারের পর কোহলিই প্রথম

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:২৬ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

সুনিল গাভাস্কারকে যখন লিটল মাস্টার বলা হতো, তখন অনেকেই মনে করেছিল ভারতীয় ক্রিকেটে বুঝি এর চেয়ে আর কোনো ব্যাটিং জিনিয়াসের আগমণ ঘটবে না! কিন্তু গাভাস্কার বিদায় নেয়ার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদচারণা শুরু হয়ে যায় শচীন রমেশ টেন্ডুলকার নামক আরেক ব্যাটসম্যানের। গাভাস্কারকে বেমালুম ভুলে গিয়ে ভারতীয়রা মেগে উঠলো টেন্ডুলকারকে নিয়ে।

লিটল মাস্টার হয়ে গেলেন এবার শচীন টেন্ডুলকার। শুধু গাভাস্কার কেন, শচীনের তুলনা হতে শুরু করলো কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের সঙ্গে। ব্যাট হাতে ক্রিকেটের সব রেকর্ড নিজের নামের পাশে লিখে নিলেন শচীন। একশ’টি সেঞ্চুরির সঙ্গে ওয়ানডে এবং টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। বলাবলি শুরু হলো, শচীনের চেয়ে আর জিনিয়াস কে হতে পারে!

শচীন বিদায় নেয়ার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদক্ষেপ দিয়ে ফেলেছেন বিরাট কোহলি। শুধুই কী একজন ব্যাটসম্যান! কোহলি তো একজন নেতাও। পুরো ভারতীয় দলকে তার একার ছায়ার নিচে নিয়ে এসেছেন তিনি। আর নেতৃত্বের চাপ-টাপ সব বাইরে রেখে ব্যাট হাতে চরম দুর্ধর্ষ এবং বিধ্বংসী একজন হয়ে উঠছেন কী টেস্ট, কী ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টিতে।

সুনীল গাভাস্কারের পর শুধু শচীন টেন্ডুলকারই নন, রাহুল দ্রাবিড়, আজহারউদ্দিন, সৌরভ গাঙ্গুলি, বিরেন্দর শেবাগ থেকে শুরু করে অনেক নামকরা ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ার শেষ করে ফেলেছেন, কিন্তু গাভাস্কার একটি ক্ষেত্রে যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, সেটা ছুঁতে পারেননি তারা।

এবার গাভাস্কারের সেই গৌরব স্পর্শ করে ফেললেন বিরাট কোহলিও। আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৯০০ রেটিং পয়েন্ট ছুঁলেন কোহলি। সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৫২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলার পরই র্যাংকিংয়ের ঈর্ষণীয় এই স্থানে পৌঁছালেন তিনি।

১৯৭৯ সালে দ্য ওভালে নিজের ৫০তম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১৩ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২২১ রান করার পর ৮৮৭ পয়েন্ট থেকে এক লাফে গাভাস্কারের রেটিং পয়েন্ট দাঁড়িয়েছিল ৯১৬। এটা ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা। কোহলি তার ৬৫তম টেস্টে এসে ১৫২ এবং ৫ রান করার পর রেটিং পয়েন্ট ৮৮০ থেকে গিয়ে দাঁড়াল ৯০০ তে।

শচীন এবং রাহুল দ্রাবিড় কখনও ৯০০ পয়েণ্ট অর্জন করতে না পারলেও কাছাকাছি গিয়েছিলেন। ২০০২ সালে শচীনের সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট দাঁড়িয়েছিল ৮৯৮ এবং ২০০৫ সালে রাহুল দ্রাবিড়ের রেটিং পয়েন্ট দাঁড়িয়েছিল ৮৯২।

তবে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরাট কোহলি হলেন ৩১তম ব্যাটসম্যান, যিনি ক্যারিয়ারে ৯০০ পয়েণ্টের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। ডন ব্র্যাডম্যান রয়েছেন এ ক্ষেত্রে সবার শীর্ষে। তার সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট ছিল ৯৬১। স্টিভেন স্মিথের পয়েণ্ট ৯৪৭, লেন হটন ৯৪৫, রিকি পন্টিং এবং জ্যাক হবস দু’জনেরই পয়েন্ট ছিল ৯৪২ করে।

৯০০ রেটিং পয়েন্ট পাওয়া সত্বেও কোহলি র্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠতে পারলেন না। কারণ, ক্যারিয়ার সেরা রেটিং ৯৪৭ পয়েন্ট নিয়ে যে সবার ওপরে রয়েছেন স্টিভেন স্মিথ। দ্বিতীয় স্থান থেকে কোহলি নামিয়ে দিয়েছেন জো রুটকে। তিনি উঠলেন দ্বিতীয় স্থানে।

বোলারদের র্যাংকিংয়ে কয়েকদিন আগেই জেমস অ্যান্ডারসনকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠেছিলেন কাগিসো রাবাদা। সেঞ্চুরিয়ন টেস্টের পর রাবাদা আবারও নেমে গেছেন। শীর্ষে উঠলেন অ্যান্ডারসন। আর অলরাউন্ডারদের শীর্ষে বরাবরের মতই নাম রয়েছে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের।

আইএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :