‘দান দান তিন দানে’ এবার জিতল কুমিল্লা-ঢাকা

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:২৩ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

‘দান দান তিন দান’- কথার কথা প্রবচন। আর ক্রিকেটীয় পরিভাষার ‘ল অফ এ্যাভারেজ’। শুধু মুখে আর লিখায় নয়, বাস্তবেও যে সত্য হয়, তার প্রমাণ মিলেছিল আগের বারের বিপিএলে। এবারও তাই হলো। রাউন্ড রবিন লিগ পর্বে চিটাগং ভাইকিংসের কাছে দুই দুইবার হেরে যাওয়া ঢাকা ডায়নামাইটস আজ এলিমিনেটর-১'এ মুশফিক বাহিনীর বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দিল।

একই ভাবে গ্রুপপর্বে রংপুর রাইডার্সের কাছে পাত্তাই না পাওয়া (দুবারই ৯ উইকেটে হেরে যাওয়া) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবার কোয়ালিফায়ার-১'এ মাশরাফির দলকে হারিয়ে চলে গেল ফাইনালে।

ইতিহাস জানাচ্ছে আগেরবার মানে বিপিএলের পঞ্চম আসরে রাউন্ড রবিন লিগে রংপুর আর ঢাকা ডায়নামাইটসকে দু'বারের মোকাবিলায় প্রতিবার হারানো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ঐ দুই দলের কাছে যথাক্রমে কোয়লিফায়ার-১'এ ঢাকার কাছে ৯৫ রানে আর কোয়ালিফায়ার-২'এ রংপুরের কাছে ৩৬ রানে হেরে বিদায় নিয়েছিল।

আর এবার রাউন্ড রবিন লিগে রংপুরের কাছে প্রথমবার ৬৩ ও পরের বার ৭২ রানে অলআউট হওয়া তামিম, ইমরুল, আফ্রিদি ও থিসারা পেরেরারা আজ সোমবার রাতে আসল জায়গায় জিতে চলে গেল ফাইনালে। কাকতালীয়ভাবে ঠিক একই অবস্থা হয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস ও চিটাগং ভাইকিংসের মধ্যেও। সেখানেও রবিন লিগের দুই পর্বেই সাকিবের ঢাকার বিপক্ষে জিতেছিল মুশফিকের চিটাগাং।

প্রথম সাক্ষাতে সাকিবের ঢাকাকে ৩ উইকেটে হারানোর পর বন্দর নগরীর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ফিরতি লড়াইয়েও সাকিব বাহিনীর বিপক্ষে মুশফিকের চিটাগাং জিতেছে ১১ রানে। কিন্তু এবার এলিমিনেটর পর্বের প্রথম ম্যাচে মুশফিক বাহিনীকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে সাকিবের ঢাকা।

তিনবারের মাথায় এসে হিসেব বদলে যাবেই, এটা যেমন নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই; আবার তিন বারে অন্য কোন দল জিতবে না- সেটাও বলার অবকাশ নেই। তবে সংস্কার পন্থী ক্রিকেট অনুরাগিরা বিশেষ করে যারা পরিসংখ্যান নিয়ে বেশী ঘাটঘাটি করেন, তারা নতুন কিছুর চিন্তা করতেই পারেন।

d

কারণ ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সাক্ষী দিচ্ছে আগেরবারও এমন হয়েছিল। মানে রবিন লিগের প্রথম ও ফিরতি পর্বে জেতা দল শেষপর্যন্ত কোয়ালিফায়ার পর্বে গিয়ে আর পারেনি। সেটা অন্য কোন দল নয়, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এক ঝাঁক তারার দল কুমিল্লা আগেরবার রাউন্ড রবিন লিগ পর্ব শেষে সবার পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে থেকেই কোয়ালিফায়ার খেলতে নেমেছিল।

রাউন্ড রবিন লিগে রংপুর ও ঢাকাকে দুবার করে হারিয়েই শেষ চারে পা রেখেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মাশরাফির রংপুরের বিপক্ষে তামিমের কুমিল্লা প্রথমবার ১৪ রানে জিতেছিল। ফিরতি পর্বেও পারেনি রংপুর। কুমিল্লা জিতেছিল ৪ উইকেটে। কিন্তু কোয়ালিফায়ার-১'এ বদলে যায় সমীকরণ। সেখানে আর রবিন লিগের হিসেব টিকেনি। নতুন হিসেবের দেখা মেলে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ৩৬ রানে রানে জিতে শেষ হাসিটা রংপুরই হেসেছিল। এরপর কোয়ালিফাই-২'তেও গিয়ে আর পারেনি তামিমের দল।

নাটকীয়ভাবে যে দলকে রবিন লিগে দুইবার হারিয়ে এসেছিল কোয়ালিফায়ার-২'তে সেই ঢাকার কাছে ৯৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারে শিরোপা স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয় কুমিল্লার। অথচ ঐ ঢাকার সাথেও প্রথমবার ৪ উইকেট আর ফিরতি পর্বে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সাকিবের দলের বিপক্ষে ১২ রানে জিতেছিল সালাউদ্দীনের শিষ্যরা।

কিন্তু শেষ সর্বনাশটা ঘটে সেই ঢাকার কাছে কোয়ালিফায়ার-২'এ ৯৫ রানের বিরাট ব্যবধানে হারের মধ্য দিয়ে। আর তাতেই স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় নীল হয় কুমিল্লা। আর এবার ঘটলো ঠিক তার উল্টোটা। সেই কুমিল্লা এবার রাউন্ড রবিন লিগে হারের বৃত্তে আটকে ঠিক তিন বারের মাথায় জিতে ফাইনালে। কি দারুণ তাই না! একেই বলে ‘দান দান তিন দান’!

এআরবি/এসএএস/এমএমআর/বিএ