দুই পেসারের দাপটে চট্টগ্রামের হ্যাটট্রিক জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৪ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২০

ব্যাটসম্যানরা খুব বড় সংগ্রহ তুলে দেয়নি বোলারদের হাতে, টানা তৃতীয় জয়ের লক্ষ্যে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের বোলারদের হাতে ছিল ১৫১ রানের পুঁজি। টি-টোয়েন্টি বিবেচনায় এটি তেমন কঠিন লক্ষ্য না হলেও, দুই পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও শরীফুল ইসলামের তোপে ফরচুন বরিশালের ব্যাটসম্যানদের জন্য এটিই হয়ে যায় দূরের বাতিঘর।

এ দুই বাঁ-হাতি পেসারের তোপেই ১৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পারেনি বরিশাল। আগের দুই ম্যাচে চট্টগ্রামের সামনে বেক্সিমকো ঢাকা ও জেমকন খুলনা যথাক্রমে ৮৮ ও ৮৬ রানে অলআউট হলেও, এবার তাদের বিপক্ষে ১৪১ রান করে ফেলে বরিশাল। এতে অবশ্য লাভ হয়নি কোনো। ম্যাচ শেষে ১০ রানের ব্যবধানে জয়টা পেয়েছে চট্টগ্রামই।

১৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বরিশাল। রানের জন্য হাসফাঁশ করতে করতে নাহিদুল ইসলামের ওভারে একটি ছক্কা হাঁকালেও, শরীফুলের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন মেহেদি মিরাজ, ফিরতি ক্যাচে ধরা পড়েন বোলারের হাতেই। আউট হওয়ার আগে করেন ১৩ বলে ১৩ রান।

তিন নম্বরে পারভেজ হোসেন ইমনও পারেননি সাবলীল ব্যাটিং করতে। অপরপ্রান্তে তামিমের ব্যাট থেকেও আসে একের পর এক ডট। তবে শরীফুল ও নাহিদুলকে একটি করে ছক্কা হাঁকিয়ে রানের চাপটা কমানোর চেষ্টা করেন; কিন্তু বেশিক্ষণ চালিয়ে নিতে পারেননি। একাদশতম ওভারে মোসাদ্দেক সৈকতকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লংঅফ বাউন্ডারিতে সৈকত আলির হাতে ধরা পড়েন।

আউট হওয়ার আগে ১ চার ও ২ ছয়ের মারে ৩২ বল খেলে ঠিক ৩২ রান করেন বরিশাল অধিনায়ক। এর আগে ইনিংসের দলীয় ৫৯ রানের মাথায় ৩৬ রানের জুটির সমাপ্তি ঘটিয়ে মোস্তাফিজের করা প্রথম ওভারেই আউট হন পারভেজ ইমন, তার ব্যাট থেকে আসে দুই চারের মারে ১৬ বলে ১১ রান। তামিম-ইমন ফিরে যাওয়ার পরই মূলতঃ ম্যাচ ঝুঁকে যায় চট্টগ্রামের দিকে।

তবু শেষ চেষ্টা করেছিলেন তৌহিদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন ধ্রুব; কিন্তু তারা কেউই ম্যাচ জেতানোর মতো লম্বা সময় উইকেটে থাকতে পারেননি। সৌম্যর বোলিংয়ে খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন ১০ বলে ১৭ রান করা তৌহিদ এবং ২২ বলে ২৪ রান করা আফিফকে সোজা বোল্ড করে দেন শরীফুল।

এরপর স্রেফ বাকি ছিল আনুষ্ঠানিকতা। বরিশালের শেষ দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে আউট করে জয় নিশ্চিত করে দেন মোস্তাফিজ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪১ রানের বরিশাল, চট্টগ্রাম পায় ১০ রানের জয়।

বল হাতে চট্টগ্রামের দুই পেসারের ঝুলিতেই জমা পড়েছে ৩টি করে উইকেট। এর জন্য মোস্তাফিজ খরচ করেন ২২ ও শরীফুলের ৪ ওভারে যায় ২৭ রান। এর বাইরে সৌম্য ও মোসাদ্দেক নেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই সাজঘরে ফিরে যান সৌম্য, এক চারের মারে করেন ৬ বলে ৫ রান। ইনজুরিতে মুমিনুল হক ছিটকে পড়ায় তিন নম্বরে নামেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। লিটন দাসকে নিয়ে ঝড়ো ব্যাটিংয়ের ইঙ্গিত দেন মিঠুন।

কিন্তু সুমন খানের করা ষষ্ঠ ওভারে পরপর চার ও ছয় হাঁকিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে ১৩ বলে করেন ১৭ রান। অপরপ্রান্তে লিটন ছিলেন সাবলীল। আগের ম্যাচে করা ফিফটির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দৃষ্টিনন্দন সব শট খেলতে থাকেন লিটন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি নিজের ওপর।

ইনিংসের দশম ওভারে আবু জায়েদ রাহী বোলিংয়ে উদ্ভাবনী শট খেলতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে মেহেদি মিরাজের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তখন তার নামের পাশে ৪ চারের মারে ২৫ বলে ৩৫ রানের ইনিংস পরে দেখেশুনে খেলতে শুরু করেন শামসুর শুভ ও মোসাদ্দেক সৈকত। দুজন মিলে যোগ করেন ২৮ রান।

দলীয় ৯৬ রানের মাথায় ২৮ বলে ২৬ রান করে আউট হন শুভ। দলকে হতাশ করে ৯ বলে মাত্র ২ রান নিয়ে সাজঘরে ফেরেন জিয়াউর রহমান। এরপর ইনিংসের বাকিটা সাজান মূলত সৈকত আলি। মোসাদ্দেক সৈকতের সঙ্গে মাত্র ১৮ বলে যোগ করেন ৪০ রান। এর মধ্যে আবু জায়েদ রাহীর করা ১৯তম ওভারে তিন ছয়ের মারে ২৩ রান তুলে নেন সৈকত আলি।

ইনিংসের শেষ বলে রানআউট হওয়ার আগে ১১ বলে এক চার ও তিন ছয়ের মারে ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন সৈকত আলি। মোসাদ্দেক সৈকতের ব্যাট থেকে আসে এক ছয়ের মারে ২৪ বলে ২৮ রানের ইনিংস। শেষদিকে দুই চারের মারে ৪ বলে ৮ রান করেন নাহিদুল ইসলাম।

বল হাতে বরিশালের পক্ষে ২ উইকেট নেন আবু জায়েদ রাহী। এছাড়া সুমন খান, কামরুল রাব্বি, তাসকিন আহমেদ ও মেহেদি মিরাজের ঝুলিতে যায় ১টি করে উইকেট।

এসএএস/আইএইচএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]