বাংলাদেশের ব্যাঙ্গালুরু দুঃখগাঁথা
ভারতের বিপক্ষে তিরে এসে তরী ডোবানোর অভ্যাস নতুন নয় বাংলাদেশের জন্য। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হয়ে থাকবে হয়তো ব্যাঙ্গালুরুতে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনের ম্যাচটি। ২০০৭ বিশ্বকাপের পর সেবারই প্রথম মূল পর্বের কোনো ম্যাচ জেতার একদম দ্বারপ্রান্তে ছিল বাংলাদেশ। ভারতকে তাদেরই ঘরের মাঠে হারাতে টাইগারদের শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১১ রান।
ভারতের দেয়া ১৪৭ রান তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকলেও, প্রয়োজনীয় রানরেটের সঙ্গে তাল মিলিয়েই খেলছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। শেষ ওভারে তাই সহজ সমীকরণ মেলালেই হতো। উইকেটে বাংলাদেশের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থাকার কারণেই ১১ রান তখন মাত্রই মনে হচ্ছিল।

আর প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহ সিঙ্গেলস নিয়ে প্রান্ত বদলের পর হার্দিক পান্ডিয়ার টানা দুই বলে দুই চার মেরে সেই সমীকরণ আরও সহজ করে তোলেন মুশফিক। তৃতীয় বলে স্কুপ করে চার মেরে মুশফিক তো জয়ের আনন্দে কতক্ষণ উদযাপনও সেরে নিলেন।
নাটকীয়তার শুরু এরপরই। নাটকীয়তা না বলে সেটা মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর বোকামিও বলা যায় আবার। জয় নিশ্চিতের আগে মুশফিকের উদযাপন যেন কাল ডেকে আনে বাংলাদেশের। আবেগ পেয়ে বসায় মুশফিক পান্ডিয়ার চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে টাইগারদের জয় এনে দিয়ে চেয়েছিলেন। তবে তার শর্ট লেন্থের বল পুল করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে শিখর ধাওয়ানকে ক্যাচ দিয়ে বসেন মুশফিক।
বাংলাদেশের জয়ের সমীকরণ তখন দাঁড়ায় ২ বলে ২ রান। উইকেটে তখনো দলের সেরা ফিনিশার মাহমুদউল্লাহ থাকায় জয়ই দেখছিল লাল-সবুজের সমর্থকরা। তবে মুশফিকের মতো একই বোকামি মাহমুদউল্লাহর। তিনিও চাইলেন ছয় মেরে দলকে জয় এনে দেবেন। কিন্তু পান্ডিয়ার ফুলটস ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক হলো না, ফলাফল রবিন্দ্র জাদেজার তালুবন্দী মাহমুদউল্লাহ।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে রাজ্যের হতাশা নেমে আসে বাংলাদেশ শিবিরে। অন্যদিকে, প্রায় হারতে থাকা ম্যাচে আবার লড়াইয়ে ফিরতেই স্বাগতিক সমর্থকদের সে কী উল্লাস। তাদের উল্লাস চলে বাংলাদেশের ইনিংস শেষেও। কেননা পান্ডিয়ার করা ষষ্ঠ বলটি ব্যাটেই লাগাতে পারেনি। জমা পড়ে উইকেটের পেছনে থাকা ভারতীয় অধিনায়ক এমএস ধোনির গ্লাভসে।
বাংলাদেশ তবুও একটা রান নেয়ার চেষ্টা করেছিল বটে। তবে ধোনির দৌড়ে এসে স্টাম্প ভাঙার আগে পপিং ক্রিজ ছুঁতে পারেননি মোস্তাফিজুর রহমান। তৃতীয় আম্পায়ার রানআউট নিশ্চিতের পর ভারতীয়দের উল্লাস তাই রূপ নেয় মত্ত উদযাপনে। গগনবিদারী চিৎকারে ব্যাঙ্গালুরুর আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করতে থাকেন স্বাগতিক সমর্থকরা।
সেটা হবে না-ই বা কেন? এভাবে হারা ম্যাচ অপ্রত্যাশিতভাবে জিতে গেলে বাড়তি আনন্দ তো লাগবেই। তবে স্বাগতিকদের সেই আনন্দ উদযাপন নুনের ছিটে হয়ে পড়ছিল টাইগার ক্রিকেটারদের কাটা গায়ে।
আইএইচএস/