ফিলিপসের ক্যাচ মিসেই কি ম্যাচ মিস!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:০০ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩

ঘুরেফিরে সেই পুরনো কথাই সত্য হলো। ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস সত্যিই অনেক সময় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতীতে বহুবার এ সত্যের দেখা মিলেছে।

আজ শনিবার শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সেই সত্যের দেখা মিললো আরেকবার। রানের খাতা খোলার আগেই জীবন পেলেন নিউজিল্যান্ডের অন্ধকার ঘরের বাতি ‘ফিলিপস’। অতঃপর সেই ফিলিপসেই ম্যাচ হারলো বাংলাদেশ।

অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের বলে নিউজিল্যান্ডের রান যখন ৫২ (৫ উইকেটে), ঠিক তখন প্রথম স্লিপে গ্লেন ফিলিপসের ক্যাচ ফেলে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

দ্বিতীয় জীবন পেয়ে ফিলিপস আর আউট হননি। দল জিতিয়ে বিজয়ীর বেশে ফিরেছেন। মিরাজের বলে কভার অঞ্চল দিয়ে ম্যাচ জেতানো বাউন্ডারিটিও আসে ফিলিপসের ব্যাট থেকে।

মাত্র ১৩৬ রানে এগিয়ে থেকেও তাইজুল-মিরাজ ও শরিফুলদের প্রাণপণ লড়াইয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। এত ছোট স্কোরকে ডিফেন্ড করার কিছু নেই। নিয়মিত বিরতিতে উইকেটের পতন ঘটানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সেই পথেই এগুচ্ছিল বাংলাদেশ। ৫১ রানে ৫ উইকেট ফেলেও দিয়েছিল কিউইদের।

একপ্রান্তে প্রায় নিয়মিত উইকেটের পতন ঘটলেও অন্যদিকে দৃঢ় হয়ে খেলছেন অনমনীয় ফিলিপস। প্রথম ইনিংসেও তার একার দৃঢ়তায় ৭ রানের লিড পায় টিম সাউদির দল।

প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানে ৫ উইকেট খোয়ানোর পর একা লড়াই করে দলকে এগিয়ে দেন ফিলিপস। স্লো আর টার্নিং পিচে ব্যাকরণ মেনে বলের মেধাগুণ বিচার করে খেললে লাভ হবে না। বল প্রত্যাশার বাইরে হয় বেশি টার্ন করবে, না হয় বিপজ্জনকভাবে কিংবা আচমকা নিচু হয়ে যেতে পারে। এমন আনপ্রেডিক্টেবল উইকেটে বরং আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট চালিয়ে খেলার চেষ্টা হতে পারে বেস্ট অপশন।

সেই কৌশলেই প্রথম ইনিংসে ৭২ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ৮৭ রানের দারুণ আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী ইনিংস উপহার দেন ফিলিপস। তার ইনিংসের ৬০ রানই আসে চার ও ছক্কা থেকে। ফিলিপসের হাত ধরেই ৭ রানের লিড পায় নিউজিল্যান্ড।

এবার দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০ রানের হার না মানা ইনিংস উপহার দিয়ে দল জিতিয়েছেন ফিলিপস। অবশ্য এবার তাকে দারুণ সহযোগিতা করেছেন স্পিনার স্যান্টনার। সপ্তম উইকেটে ফিলিপস আর স্যান্টনার মিলে তুলে দিয়েছেন অবিচ্ছিন্ন ৭০ রান। যার ৩৫ রান আসে স্যান্টনারের ব্যাট থেকে।

কিন্তু এবারও ৪৮ বলে ৫ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় একদিক আগলে ও রানের চাকা সচল রেখে দল জিতিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে শেষ হাসি ফিলিপসের।

স্লো আর টার্নিং পিচে শুধু ধৈর্য্য ধরে রয়ে-সয়ে ব্যাকরণ মেনে ঠান্ডা মাথায় বল টু বল বিচার বিশ্লেষণ করেই সফল হওয়া যায় না। পিচ আনপ্রেডিক্টেবল থাকলে খানিক আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট চালিয়ে খেলেও কার্যকর হওয়া যায়, ফিলিপস তার আদর্শ উদাহরণ হলেন শেরে বাংলায়।

একজন ফিলিপস বড্ড মিস করেছে বাংলাদেশ। হয়তো নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানই হতে পারতেন বাংলাদেশের ফিলিপস, যদি এই টেস্টে খেলতেন!

এআরবি/এমএমআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।