জাতীয় দল ঢাকায়, কোচ বাটলারকে নেপাল পাঠালো বাফুফে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:২৫ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

নবম রাউন্ড শেষ হওয়ার পর নারী ফুটবল লিগ বিরতিতে গেছে মঙ্গলবার। ঘরোয়া ফুটবলে বিরতির কারণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ব্যস্ততা। বুধবার সন্ধ্যায় নেপাল গেছে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। একই দিন শুরু হয়েছে এশিয়ান কাপের জন্য জাতীয় দলের প্রস্তুতি।

বয়সভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হবে ৩১ জানুয়ারি। চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বয়সভিত্তিক সাফের এই টুর্নামেন্টটিতে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ খেলছে না। ৭ দেশের মধ্যে ৪টি নিয়ে লিগ ভিত্তিতে হবে টুর্নামেন্ট। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনাল। পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ এই টুর্নামেন্টে অংশই নিচ্ছে না।

এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ও ভারত সর্বশেষ আসরের যৌথ চ্যাম্পিয়ন। ২০২৪ সালে ঢাকার কমলাপুরে বসেছিল মেয়েদের এই টুর্নামেন্টের আসর। নাটকীয় ফাইনাল শেষ হয়েছিল ১-১ গোলে। তারপর ছিল আরো নাটক। টাইব্রেকারেও সমতা ছিল ১১-১১ গোলে। তারপর অনেক নাটক শেষে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছে যে জাতীয় দলের প্রস্তুতি বাদ দিয়ে প্রধান কোচ পিটার বাটলারকে পাঠিয়ে দিয়েছে নেপালে বয়সভিত্তিক সাফের ট্রফি ধরে রাখার মিশনে। এমনকি সহকারি কোচ মাহবুবুর রহমান লিটুকেও নিয়ে গেছেন পিটার।

অন্যদিকে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় নারী ফুটবল দলের ‌‘ক্লোজড ডোর’ অনুশীলন। কোচ ও সহকারী কোচ বয়সভিত্তিক সাফে নেপাল যাওয়ায় বাফুফের স্থানীয় কয়েকজনকে দিয়ে এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি চালিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

কোচ পিটার বাটলার নিজে থেকে বয়সভিত্তিক দল নিয়ে নেপাল গেছেন নাকি বাফুফেকেই ট্রফির নেশায় তাকে পাঠিয়েছেন সেই উত্তর মিলছে না। তবে মঙ্গলবার বাফুফের অন্যতম সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেছিলেন, নারী ফুটবলের সব পরিকল্পনা পিটার বাটলারই সাজিয়েছেন। তারা শুধু বাস্তবায়ন করছেন।
জাতীয় দলের প্রস্তুতি শুরু হলেও বাফুফে খেলোয়াড় সংখ্যা গোপন রেখেছে। দেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতায় খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই প্রতিযোগিতার আবাসিক ক্যাম্প শুরু হলেও কোনো খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশ করেনি বাফুফে। এমনকি কতজন নিয়ে অনুশীলন শুরু হয়েছে, সেটাও গোপন রেখে ক্লোজড ডোর অনুশীলন শুরু করেছে বাফুফে। জাতীয় দলের আগে ক্যাম্প হতো পাঁচ তারকা হোটেলে। এবার পল্টনের একটি হোটেলে ওঠানো হয়েছে আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের।

দল দেশের বাইরে গেলে সাধারণত মিডিয়া ব্রিফ্রিং হয়ে থাকে। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ দল নেপালে গেলেও তা নিয়ে কোনো বক্তব্য দিয়ে যাননি পিটার বাটলার। তাই কেন তিনি জাতীয় দল রেখে বয়সভিত্তিক দল নিয়ে গেলেন সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি।

বাফুফের একজন বলছিলেন, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে খেলেন। জাতীয় দলেরও কয়েকজন আছেন। জাতীয় দলের অস্ট্রেলিয়া মিশন নিয়ে অনেক পরিকল্পনা বাফুফের। সেভাবে নেই অনূর্ধ্ব-২০ দলের জন্য। এই দলটিও প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ খেলবে এপ্রিলে থাইল্যান্ডে। তবে এই বিষয়গুলো পিটার পরিস্কার করতে পারতেন নেপাল যাওয়ার আগে। তা করেননি। কোনো জবাব নেই বাফুফের কারো কাছেও।

জাতীয় দলের ক্যাম্পের খেলোয়াড় তালিকা না দিলেও জানা গেছে ২৯ জনকে ক্যাম্পে ডেকেছে বাফুফে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে সেই ক্যাম্প। তারপর দল চলে যাবে থাইল্যান্ড। সেখানে এক সপ্তাহ অনুশীলন করে চলে যাবে অস্ট্রেলিয়া। সিডিনিতে ক্যাম্প চলবে টুর্নামেন্ট শুরু পর্যন্ত। ৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ। তার আগে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলানো হবে ঋতুপর্ণাদের। একটি হতে পারে ব্যাংককে, আরেকটি সিডনিতে। ব্যাংককে ম্যাচের ব্যবস্থা না হলে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচই হবে সিডনিতে স্থানীয় ক্লাব দলের বিপক্ষে।

এএফসি এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপের অন্য দুই দেশ উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান। এই প্রতিযোগিতা থেকে ফিফা বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক ফুটবলে খেলার সুযোগও আছে। এমন একটি প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি রেখে জাতীয় দলের প্রধান ও সহকারী কোচ চলে গেছেন বয়সভিত্তিক সাফের ট্রফি ধরে রাখতে।

আরআই/আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।