বিফলে শামীমের অবিশ্বাস্য লড়াই, রুদ্ধশ্বাস জয় সিলেটের
১৭৪ তাড়া করতে নেমে ১১৬ রানে নেই ৮ উইকেট। বড় পরাজয়ই লেখা হয়ে গিয়েছিল ঢাকা ক্যাপিটাসের ভাগ্যে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য লড়াই উপহার দিলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। কিন্তু ৪৩ বলে তার হার না মানা ৮১ রানের ইনিংসটি গেছে বিফলে।
ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত সম্ভাবনা টিকে ছিল ঢাকার। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলে রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ে ৬ রানে জিতেছে সিলেট টাইটান্স।
রান তাড়ায় নেমে ঢাকার টপ আর মিডল অর্ডার ধসে পড়ে। প্রথম পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে দুই অংক ছুঁতে পারেন কেবল উসমান খান (১৫ বলে ২১)। সাইফ হাসান ৯, জুবায়েদ আকবরি ১, মোহাম্মদ মিঠুন ০ আর নাসির হোসেন করেন ৫ রান।
কিছুটা সময় চালিয়ে খেলে দলকে এগিয়ে দেন সাব্বির রহমান (১৯ বলে ২৩)। নিশ্চিত হারের মুখে দাঁড়িয়ে এরপর লড়াই করেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। তবে শেষ হাসি হাসতে পারেননি।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ২৭। শামীম তিন চার আর এক ছক্কায় ১৮ রান তুললে শেষ বলে দরকার পড়ে ৭, ছক্কা হাঁকালে টাই। পারেননি শামীম। ৪৩ বলে ৯ চার আর ৩ ছক্কায় ৮১ রানে অপরাজিত থেকে যান তিনি।
আজমতউল্লাহ ওমরজাই ৩টি এবং মোহাম্মদ আমির ও নাসুম আহমেদ নেন ২টি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে শুরুটা ভালো হয়নি সিলেট টাইটান্সের। শুরুতেই দুই উইকেট নেই। এরপর পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইয়ুম আইয়ুব মিলে হাল ধরেন। আর শেষ দিকে ঢাকার বোলারদের উপর তাণ্ডব চালান সিলেটের আফগান ব্যাটার আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তার বিষ্ফোরক ফিফটিতে শেষ তিন ওভারে সিলেটের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৪৭ রান আর ১৭৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে দলটি। ২৪ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন ওমরজাই।
এদিন শুরুতেই ওপেনার রনি তালুকদারকে হারায় সিলেট। তৃতীয় ওভারে সালমান মির্জার অফ স্টাম্পের বাইরে করা লেংথ ডেলিভারিটি লং অনের সীমানা পার করতে চেয়েছিলেন রনি। তবে মিড অনে সেটি দারুণ দক্ষতায় তালুবন্দি করেন সাব্বির রহমান। সাত বলে ১১ রান করা রনি ফিরে গেলে ১৫ রানে সিলেটের ওপেনিং জুটি ভাঙে।
দ্রুত রান তোলার মিশন নিয়ে ৩ নম্বরে নামলেও উইকেটে থিতু হতে পারেননি সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। চতুর্থ ওভারে তাসকিনের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুলার লেংথের বলটি ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে খেলতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ আউট হন তিনি। ফেরার আগে সিলেটের অধিনায়ক করেন ৭ বলে ৬ রান। দলীয় ২২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় সিলেট।
এরপর সাইয়ুম আইয়ুব ও পারভেজ হোসেন ইমন মিলে হাল ধরার চেষ্টা করেন। জুটিতে ৬৪ উঠলেও রান তোলার গতি ছিল খুবই কম। ৩৪ বলে ২৯ রান করে ফেরেন সাইম। এরপর ইমনও ফেরেন দ্রুতই। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। ৩২ বলের ইনিংসে দুটি করে চার ও ছক্কা হাঁকান এই বাহাতি ব্যাটার।
আফিফ হোসেনও পারেননি দ্রুত রান তুলতে। ১১ বলে ১৩ রান করে বোল্ড হন তিনি। তবে শেষ দিকে ইথান ব্রুকস ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই মিলে দারুণভাবে শেষ করেন ইনিংস। ১৮তম ওভারে আসে ২২ রান, ওমরজাই একাই নেন ২১। পরের ওভারে ২৪তম বলে ফিফটি পূর্ণ করেন আফগানিস্তানের এই অলরাউন্ডার।
সালমান মির্জা নেন ২টি উইকেট।
এমএমআর