মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

২০ কোটি টাকা অনুদান কেড়ে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:৪৪ পিএম, ১৬ মে ২০২৬

নারীদের খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে দুই দফায় ২০ কোটি টাকা (১০ কোটি টাকা + ১০ কোটি টাকা) অনুদান দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে। সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্পোরেট শাখায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অনুকূলে ২০ কোটি টাকা এফডিআর করা হয়েছিল।

শর্ত ছিল লভ্যাংশের ৮০ ভাগ ক্রীড়া উন্নয়নে মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ব্যয় করবে এবং ২০ ভাগ অর্থ সিড মানির সাথে যোগ হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সেই ২০ কোটি টাকা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।

ধানমন্ডির মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সভানেত্রী বলেছেন, ‘সংস্থার তৎকালীন সভানেত্রী মাহাবুব আরা বেগম গিনি (ম্যান্ডেটরি সিগনেটরী), সাধারণ সম্পাদিকা প্রকৌশলী ফিরোজা করিম নেলী ও কোষাধ্যক্ষ রওশন আরা ছবি এফডিআর দু’টির সিগনেটরী ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য মাহাবুব আরা গিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। প্রতি তিন মাস অন্তর বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা লভ্যাংশ পেয়ে আসছিলো।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরেও লভ্যাংশ প্রদান অব্যাহত ছিল উল্লেখ করে সংস্থাটির সভানেত্রী বলেছেন, ‘গত বছর আগস্ট মাসেও মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে লভ্যাংশ প্রদান করা হয়। এরপর থেকে আর কোনো লভ্যাংশ পাওয়া যায়নি। সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্পোরেট শাখায় মেইল করেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে উক্ত শাখায় সশরীরে হাজির হয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’

‘গত ৫ মে সোনালী ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শাখায় স্থিতি জানতে চেয়ে আবারও একটি চিঠি পাঠানো হয়; কিন্তু অদ্যাবধি ব্যাংক থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। গত ৬মে সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা ও হিসাবরক্ষক ব্যাংকে গেলে মৌখিকভাবে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ২০ কোটি টাকার অনুদান ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাতিল করে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত নিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে সাক্ষাৎ করে ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রদানে অপারগতার কারণ জানতে চাই। তবে অদ্যাবধি ব্যাংক থেকে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। দুর্ভাগ্যজনক যে, বাংলাদেশের মহিলাদের খেলাধুলার কাজে নিবেদিত একটি সংগঠনের অনুদান এভাবে কেড়ে নেয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী বলেন, ‘গত ৫৪ বছর ধরে বাংলাদেশের নারী সমাজের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের মহিলা ও কন্যা শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি, তৃণমূল থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ফেডারেশনগুলোর ফিডার হিসাবে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। এফডিআরের লভ্যাংশ দিয়েই সংস্থা পরিচালনার যাবতীয় ব্যয়ভার নির্বাহ করা হয়। মহিলাদের খেলাধুলার অনুদান বাতিল শুধু আমাদের সংগঠনের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের সমগ্র নারী সমাজের জন্য একটি কঠিন আঘাত। এই রাষ্ট্রীয় অনুদান কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে আমাদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে আমরা বেশ কিছু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করেও বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি।’

এই এফডিআরের টাকা কিভাবে বাতিল হলো তা রহস্যজনক উল্লেখ করে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেছেন, ‘আমাদের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক নিজে একজন সফল এবং পেশাদার খেলোয়াড়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি এ বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে প্রদত্ত ২০ কোটি টাকার অনুদান কি উপায়ে, কি পন্থায় বাতিল করা হয়েছে সে সম্পর্কে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করার আহবান জানাচ্ছি। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে অন্ধকারে রেখে, কিভাবে ২০ কোটি টাকা কেড়ে নেওয়া হলো তার সঠিক চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।’

২০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ‘ক্রীড়া হলে পেশা পরিবার পাবে ভরসা’- এই স্লোগানের ভিত্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। সারাদেশে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস- প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার পরিবারের ক্রীড়ানুরাগ ইতিমধ্যে আমাদের কাছে স্পষ্ট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন- আমাদের রাষ্ট্রীয় অনুদানের ২০ কোটি টাকা ফিরিয়ে দিন। ওই ফান্ড বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অনুকূলে পুনরায় বরাদ্দ দিন।’

আরআই/আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।