রাওয়ালপিন্ডির পর এবার সিলেটেও ত্রাণকর্তা লিটন দাস

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৩৪ পিএম, ১৬ মে ২০২৬

পুরোপুরি না হলেও এ যেন সেই ২ বছর আগে ফিরে যাওয়া। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডির ঘটনাই যেন ফিরে এলো আবার। এবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে চরম বিপদে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় সেই লিটন দাস।

২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিকদের করা ২৭৪ রানের জবাবে চরমভাবে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। বোর্ডে ২৬ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফিরেছিলেন ছয়জন প্রতিষ্ঠিত ব্যাটার- সাদমান ১০, জাকির ১, নাজমুল হোসেন শান্ত ৪, মুমিনুল হক ১, মুশফিকুর রহিম ৩ ও সাকিব আল হাসান ২। মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ করুণ পরিণতির মুখে পড়তে যাচ্ছে।

কিন্তু ওই করুণ অবস্থায় শক্ত হাতে হাল ধরেন লিটন দাস। সঙ্গে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটন আর মিরাজ ২৬ রানে ৬ উইকেট খোয়ানোর পর সাহস নিয়ে লড়াই করে সপ্তম উইকেটে গড়ে তুলেছিলেন প্রতিরোধের দেয়াল। তাদের সেই লড়াকু ব্যাটিংয়ে বদলে গিয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের করুণ অবস্থা। খাদের কিনারায় পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ লিটন দাস ও মিরাজের হাত ধরে উঠে দাঁড়িয়ে ২৬২-তে গিয়ে থেমেছিল।

৩৩৩ মিনিটে ২২৮ বলে ১৩ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ১৩৮ রান করে ত্রাতা বনে গিয়েছিলেন লিটন দাস। আর মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ১২৪ বলে ৭৮ রানের ইনিংস। ২৬২ রানের মধ্যে ২১৬ রানই করেছিলেন লিটন ও মিরাজ।

আজ ১৬ মে সিলেটে পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্টে আবার লিটন দাসের ‘ওয়ান ম্যান শো’। আবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে সংগ্রামী শতরান লিটন দাসের।

এদিন অবশ্য আর কোনো সঙ্গী পাননি লিটন। আর কেউ ৭৮ তো দূরের কথা, ৫০-এর ঘরেও পৌঁছাতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান এসেছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে।

প্রতিষ্ঠিত ৬ ব্যাটারের কারও ব্যাট কথা না বলায় মাত্র ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার কঠিন কাজটি প্রায় একা হাতে করেছেন লিটন দাস।

সঙ্গী হিসেবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিন বোলার- বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম (১৬), ফাস্টবোলার তাসকিন আহমেদ (৭) ও শরিফুল ইসলাম (১২)। তাদের নিয়েই শতরান পূর্ণ করেছেন লিটন দাস। এদের সঙ্গে তিনটি জুটি গড়ে নিজে এগোনোর পাশাপাশি দলকেও এগিয়ে দিয়েছেন লিটন।

সপ্তম উইকেটে তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে লিটন যোগ করেন মূল্যবান ৬০ রান, যাতে তাইজুলের অবদান ছিল ১৩। একইভাবে অষ্টম ও নবম উইকেটে যথাক্রমে তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে ৩৮ এবং শরিফুলের সঙ্গে মিলে আরও ৬৪ রান যোগ করে দলের রান আড়াইশ পার করে দেন লিটন।

প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের মধ্যে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (০) কিছুই করতে পারেননি। ফিরে গেছেন দিনের প্রথম ওভারেই। বাকিরা জয়ের মতো খালি হাতে চরম ব্যর্থ হয়ে আউট হননি। তবে অভিষেক হওয়া তানজিদ হাসান তামিম (২৬), মুমিনুল হক (২২), অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (২৯) ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম (২৩) সেট হয়ে বিদায় নিলে বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হয়।

দুই বছর আগে যিনি পাকিস্তানের মাটিতে লিটন দাসের সঙ্গী হয়ে বিপদ কাটাতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছিলেন, সেই মেহেদী হাসান মিরাজ (৪) আজ আর তেমন কোনো অবদান রাখতে পারেননি।

তবে লিটন দাস একাই লড়াই-সংগ্রাম করে সেই দুই বছর আগের মতো আবারও বিপদ কাটাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। লিটনের ১৫৯ বলে ১৬ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ১২৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের ওপর ভর করেই সিলেটে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর গিয়ে ঠেকেছে ২৭৮-এ।

এআরবি/আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।