অলিম্পিকে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান চায় ব্রাজিল
অলিম্পিকে তিনবার শিরোপার খুব কাছে গিয়েও স্বর্ণ পদক গলায় ঝুলানো হয়নি ফুটবল পাগল জাতি ব্রাজিলের। প্রতিবারই দ্বিতীয় হয়ে রৌপ্য পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দেশটিকে।
১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ০-২ গোলে পরাজিত হয়ে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। চার বছর পরে সিওলে সোভিয়েত ইউনিয়েনের কাছে ১-২ গোলে এবং ২০১২ সালে নেইমার, মানো মেনেজেসর দলকে মেক্সিকোর কাছে হারতে হয়েছে একই ব্যবধানে।
১৯৯৬ সালের জর্জিয়া অলিম্পিকে সেমিফাইনালে নাইজেরিয়ার কাছে কানুর গোল্ডেন গোলে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল। পরে অবশ্য পর্তুগালকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ব্রোঞ্জ পদক মিলেছিল। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ী হয়ে তৃতীয় স্থান পেয়েছিল ব্রাজিল। ওই আসরে চির প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে একই ব্যবধানে হারার হতাশা অবশ্য ভুলতে পারেনি সেলেসাওরা।
সে কারণেই ইতিহাসের নিরিখে ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিককে সামনে রেখে ব্রাজিল খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারছে না। কিন্তু ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) বিশ্বাস করে জাতীয় দলের কোচ দুঙ্গাকে ছোটদের দলের দায়িত্ব দেবার পরে এবার স্বর্ণ পদকের দেখা মিলবেই। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপেক্ষারও অবসান হবে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে অনূর্ধ্ব-২৩ অলিম্পিক দলটির সাফল্য প্রায় নেই বললেই চলে। আলেসান্দ্রা গ্যালো প্রথমে ঘরের মাঠের অলিম্পিক দলটির দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
কিন্তু চলতি বছর তার অধীনে ব্রাজিলের এই দলটি দক্ষিণ আমেরিকান যুব ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে চতুর্থ স্থান লাভ করায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে এক বিবৃতিতে সিবিএফ বলেছে, ‘ব্রাজিলিয়ান জাতীয় দলের টেকনিক্যাল কমিশনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে আলেসান্দ্রে গ্যালো আগামী ২৭ মাসের জন্য অনূর্ধ্ব-২০ ও অলিম্পিক দলের দায়িত্ব ছেড়ে যাবেন। তার পরিবর্তে অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন মারিও রজেরিও রেই মিকালে এবং ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকের দলটি গ্রহণ করবেন জাতীয় দলের কোচ দুঙ্গা।’
এর আগে ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকেও ব্রাজিল দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। ওই আসরে রোনালদিনহোর নেতৃত্বে দিয়েগো আলেভেস, থিয়াগো সিলভা ও মার্সেলোর মতো খেলোয়াড়দের নিয়েও সফল হতে পারেননি দুঙ্গা। এই তিনজনই এবারের কোপা আমেরিকাতে সিনিয়র দলের সঙ্গে রয়েছেন। হারনানেস, লুকাস লেইভা, রামিরেস, জো, আলেসান্দ্রে পাতোর মতো প্রতিভাবান তরুনদেও সাথে ওই দলে অধিনায়ক হিসেবে ছিলেন রোনালদিনহো।
শেষ মুহূর্তে অবশ্য ইনজুরির কারণে রবিনহোর নাম প্রত্যাহার দুঙ্গার জন্য দুঃশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এরপরও ব্রাজিল ভালো পারফর্ম করেই সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। গ্রুপ পর্বে তারা বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড এবং স্বাগতিক চায়নাকে পরাজিত করে পরের রাউন্ডে ওঠে। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-০ গোলে ক্যামেরুনকে পরাজিত করে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করে। কিন্তু সেমিফাইনালে সার্জিও আগুয়েরোর জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত লিয়নেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ০-৩ গোলে পরাজিত হতে হয়।
তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গত বছরের ঘরের মাঠের বিশ্বকাপের হতাশাই যেন বারবার ফিরে আসছে ব্রাজিলের সামনে। খেলোয়াড়রাসহ কোচ দুঙ্গাও বিষয়টি নিয়ে চাপে আছেন। অলিম্পিকের জন্য দলটির দায়িত্ব পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলেও স্বর্ণ জয়ের ব্যপারে আশাবাদী দুঙ্গা বলেছেন, সাফল্য পেতে হলে সবকিছুই আমাদের দিয়ে দিতে হবে, যেখানে হাসি, কান্না, ত্যাগ সবই থাকবে। অনূর্ধ্ব-২০ দলের একঝাঁক তরুণের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, দেশের হয়ে জার্সি গায়ে দেয়াটা অত্যন্ত সম্মানের। আর দেশের হয়ে ট্রফি জয় করাটা তার থেকেও বেশি কিছু। জাতীয় দলের অংশ হতে পেরে তোমাদের একটাই লক্ষ্য থাকবে ব্রাজিলের হয়ে শিরোপা জয় করা।
এদিকে জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড় নেইমার ইতোমধ্যেই অলিম্পিকে অংশগ্রহণের ব্যাপারে তার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন। হয়তো-বা সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তাকে দলে দেখা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে নেইমার বলেছেন, আশা করছি এই দলের সদস্য হয়ে ব্রাজিলিয়ানদের জন্য শিরোপ জয় করতে পারবো। বিশেষ করে যেহেতু এবারের আসর ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মারাকানায় জিততে পারাটা সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা হবে।
এসকেডি/বিএ/আরআই