মারাদোনার পাশে কিছু সময়

দিলু খন্দকার
দিলু খন্দকার দিলু খন্দকার
প্রকাশিত: ০৫:৫৮ পিএম, ২৭ মে ২০১৮

বিশ্বকাপ ফুটবল দেখব এমন ইচ্ছে ছিলো ছেলেবেলা থেকে। তবে ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরুর পর ভাবনাটা একটু বদল হলো। বিশ্বকাপ ফুটবল কভার করবো। মারাদোনার খেলা দেখব। তার সাথে কথা বলবো। অটোগ্রাফ নেব। এমন বিলাসী স্বপ্ন দেখেছি।

একদিন বাসায় খাবার টেবিলে পাড়লাম, আমেরিকা বিশ্বকাপ ফুটবল কভার করব। আর সে বিলাসী স্বপ্নের কথা শুনে আব্বু-আম্মু, ভাইয়া-ভাবি আর পপি বেশ উৎসাহিত জোগালো। শুরু হলো বিশ্বকাপ ভাবনা। আম্মু পরামর্শ দিলেন, আমেরিকায় পলি আন্টি আর দোলার সাথে যোগাযোগের জন্য। আর যেদিন আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিলো, আমার অ্যাক্রিডিটেশন অনুমোদিত হয়েছে, সেদিন থেকে শুরু হয় আমার বিশ্বকাপ অভিযান।

২৪ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণ শেষে নিউ ইয়র্কের জে এফ কে (জন ফিটজেরাল্ড কেনেডি) বিমানবন্দরে যখন নেমেছি, তখন আমেরিকায় বিকেল। বিমানবন্দরের লাউঞ্জে বিশ্বকাপ ফুটবলের বিশাল ব্যানার। বিশ্বকাপ ফুটবল ডেস্ক। আকাশি নীল টি-শার্ট গায়ে তরুণ-তরুণীরা দাঁড়িয়ে। ওরা সহায়তা করছে। যে ফ্লাইটে ঢাকা থেকে এসেছি সে ফ্লাইটে ১৫-২০ জন ডাচ সমর্থকও এসেছে। কথা হয়েছিলো ক্রুইফের দেশের ফুটবল সমর্থকদের সাথে।

ডেস্কের পাশ দিয়ে যাবার সময় এক তরুণী জিজ্ঞেস করলো, ‘আপনি ওয়ার্ল্ডকাপ সকারের জন্য এসেছেন?’
বললাম হ্যাঁ।
তরুণী বললো, ‘তাহলে আমার সাথে আসুন।’

আমি ভাবছিলাম অন্য কথা। এতো প্যাসেঞ্জার যাচ্ছে ওদের জিজ্ঞেস না করে আমার কাছে কেন জানতে চাইছে? তরুণী কি করে বুঝলো আমি বিশ্বকাপের জন্য এসেছি?

Dilu-vai-1

বেশি সময় ভাবতে হলো না। লাগেজের দিকে দৃষ্টি গেলে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে গেলো। আমার লাগেজের উপর বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্যাগ লাগানো ছিলো, যা দেখে বুঝে গিয়েছিলো, আমি বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য এসেছি।

ডেস্কের কাছে যেতেই দেখা হলো আজিজ ভাইয়ার (আজিজুল হক, ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব) সাথে, ফিফার গেস্ট হয়ে এসেছেন। একই প্লেনে এসেছি।

আজিজ ভাইয়া জানতে চাইলেন, কোথায় যাবে?
বললাম, লং আইল্যান্ড।

ভাইয়া বললেন, আমি লিফট দিতে পারি। আমার সাথে গাড়ি আছে।
ধন্যবাদ জানিয়ে বললাম, আমার বোন এসেছে, পিক করার জন্য।
আজিজ ভাইয়া চলে গেলেন।

ডেস্কের তরুণীরা নিউ ইয়র্ক নিউজার্সির কিছু বুকলেট এবং বাস-ট্রেন সাবওয়ের গাইড বুক ধরিয়ে দিলো। বেশকিছু মিমি আমার হাতে তুলে দিল। ধন্যবাদ জানিয়ে ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছি।

পরদিন নিউজার্সির জায়ান্ট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টার থেকে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নিয়ে পাড়ি জমিয়েছি শিকাগো, আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি-বলিভিয়া উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার জন্য। সোলজার ফিল্ড স্টেডিয়ামে জার্মানরা ক্লিন্সম্যানের গোলে জয় তুলে নিলো। শিকাগো মিশন শেষে ফিরলাম নিউ ইয়র্ক।

পরের গন্তব্য বোস্টন, আর্জেন্টিনা-গ্রিস ম্যাচ। নিউ ইয়র্ক-বোস্টন চার, সাড়ে চার ঘণ্টার পথ। সুন্দর বাস ভ্রমণ হয়ে উঠবে আনন্দের। জানালার ধারের সিট মিলে গেলে তো কথাই নেই। চারপাশে আকাশছোঁয়া উচ্চতার সারি সারি ঘরবাড়ি। আর শহরতলির রাস্তার চারপাশজুড়ে শুধু সবুজ আর সবুজের হাতছানি। নজর কেড়ে নেবে নিমিশে।

বোস্টন বাস টার্মিনালে পৌঁছে দেখি পলি খালা অপেক্ষা করছেন। খালা নিজেই ড্রাইভ করছিলেন। আমি পাশের সিটে। খালা বলছিলেন, তার বাসা নিডহ্যামে। আর বোস্টনের যে স্টেডিয়ামে খেলা হচ্ছে, সেই ফক্সবোরো বাসা থেকে ২০-২৫ মিনিটের ড্রাইভ।

বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ছুটলাম স্টেডিয়ামে। পলি খালা স্টেডিয়াম মিডিয়া সেন্টারে পৌঁছে দিয়ে বলে গেলেন, কাজ শেষে কল করলে, এসে নিয়ে যাবেন। নিরাপত্তার ঘেরা টোপ টপকে পৌঁছে গেলাম মিডিয়া সেন্টারে। আর্জেন্টিনা-গ্রিস ‘ম্যাচ টিকিট’ কালেক্ট করলাম ফিফা’র ভেন্যু বুথ থেকে। ইত্তেফাকে নিউজ পাঠালাম।

কাজ শেষে ফিরলাম বাসায়। সারাদিন পরিশ্রমের পর ভালো একটা ঘুম হলো। সকালে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে গেলাম। বাসার পাশে ডেডহ্যাম শেরাটন, সামসুল খালু ড্রপ করে গেলেন। ওখান থেকে মিডিয়া বাসে ফক্সবোরো স্টেডিয়াম। রাস্তায় সারি সারি গাড়ি। ফুটবল প্রিয়রা ছুটছেন স্টেডিয়ামে। মিডিয়া সেন্টারে দেখা মিললো পরিচিত সাংবাদিকদের সাথে। রুপক সাহা পরিচয় করিয়ে দিলেন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক সার্জেই লেভনস্কির সাথে। লেভনস্কি মারাদোনার কাছের জন। মারাদোনার প্রায় সব ম্যাচ দেখা ওর। মারাদোনার অনেক কথা শোনালো লেভনস্কি।

আমেরিকা বেসবলের দেশ। বাস্কেটবলের দেশ। ফুটবল জনপ্রিয় নয়। তারপরও স্টেডিয়ামে মানুষের ঢল নেমেছে, ঢল। সেদিন ছিলো ২১ জুন, মঙ্গলবার। বেলা ১২টায় ম্যাচ, প্রচণ্ড রোদ মাথায় মারাদোনা, ক্যানিজিয়া, বাতিস্তুতারা খেলতে নামলেন। হাজার হাজার মানুষের করতালি আর চিৎকার ফক্সবোরোকে উৎসবমুখর করে তুললো। মাথার উপর সূর্য, প্রচণ্ড তাপ ছড়িয়ে গেল। স্টেডিয়ামজুড়ে রব, মারাদোনা... মারাদোনা...।

তখনো খেলা শুরু হয়নি, টিকিটের নম্বর মিলিয়ে বসে গেলাম, প্রেস ট্রিবিউনে। দুপুর ১২টার চড়া রোদে খেলা। তারপরও ফ্লাডলাইট জ্বলছে। স্টেডিয়াম আঙ্গিনা নানা রংয়ে রঙ্গিন।

Dilu-vai-maradona

মারাদোনার আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ গ্রিস, ইউরোপীয় ঘরানার দুর্বল দল। মারাদোনা, ক্যানিজিয়ারা উড়িয়ে দিলেন গ্রিসকে। আলো জ্বালালেন, বাতিগোল (আর্জেন্টাইনরা আদর করে বাতিস্তুতাকে ওই নামে ডাকে) হ্যাটট্রিক করলেন। অন্য গোলটি এলো ফুটবল ঈশ্বর মারাদোনার বাঁ-পায়ের জাদুতে।

গ্রিস ম্যাচে মারাদোনার অনন্য সাধারণ গোল আর বাতিস্তুতার হ্যাটট্রিক তুলে আনার ম্যাচে মারাদোনার অনবদ্য ফুটবল প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ। মারাদোনার খেলা মাঠে বসে দেখার স্বপ্ন পূরণের মোহ সাথে নিয়ে মিডিয়া সেন্টারে ফিরে রিপোর্ট লিখলাম। ভিডিওতে মারাদোনার গোল ও ড্রিবলিং দেখেছি বার বার মুগ্ধ হয়ে যাই।

কাজ শেষে মিডিয়া সেন্টারে গল্প করছি। সার্জেই এসে জানালো, ‘কাল সকাল ১০টায় আর্জেন্টিনা ব্যবসন কলেজ মাঠে প্র্যাকটিস করবে। দিয়েগো যাবে।’ সার্জেই জিজ্ঞেস করলো, ‘ইসলাম তুমি যাবে? গেলে দিয়েগোর সাথে দেখা হতে পারে। কথা হতে পারে।’

কোন কিছু না ভেবে বললাম, অবশ্যই যাবো। বাসায় ফিরে পলি খালাকে জানালাম, ‘কাল নিউ ইয়র্ক ফেরা হচ্ছে না। সকাল ১০টায় মারাদোনা প্র্যাকটিস করবে ব্যবসন কলেজ মাঠে। ওখানে যেতে হবে।’

খালা বললেন, ‘আমাদের বাসা থেকে ব্যবসন কলেজ পাঁচ মিনিটের ড্রাইভ। আমরা তোমাকে ড্রপ করবো।’ সারারাত ঘুম হলো না। মারাদোনার সাথে কথা বলবো। অটোগ্রাফ নেবো। এমন ভাবনা আচ্ছন্ন করে রাখলো।

আমেরিকা বিশ্বকাপে বল মাঠে গড়ানোর আগে আর পড়ে ফুটবল দুনিয়া যে ফুটবলারের দিকে তাকিয়ে ছিলো, সে আর কোন জন নন, ফুটবল বিস্ময় দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনা। আর্জেন্তিনীয়দের ফুটবল ঈশ্বর।

আমাদের দেশেও মারাদোনা ক্রেজ প্রচণ্ড। সে কথা মাথায় রেখে সকালে ঘুম ভেঙ্গে উঠে তৈরি হয়েছি। খালু ব্যবসন কলজে মাঠে ড্রপ করে গেলেন। আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনা তাদের ক্যাম্প করেছিলো ডেডহামের ব্যবসন কলেজ চত্বরে।

সামার ভেকেশন চলছিলো কলেজের। ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা। শুধু সাংবাদিকদের ভিড়। শত শত সাংবাদিক আর ফটোসাংবাদিক জড়ো হয়েছেন ব্যবসন কলেজ আঙ্গিনায়। দুনিয়ার সেরা ফুটবলারের জন্য এমন ক্রেজ তো থাকবেই।

ভাবছি, একজন ফুটবলারকে কাছ থেকে দেখার জন্য এর আগে এভাবে উন্মাদনায় উদগ্রিব হয়ে উঠিনি। ব্যবসন কলেজ মাঠজুড়ে কাঁটাতারের বেস্টনি। গেটের কাছে আর্মসসহ নিরাপত্তা কর্মীরা টহল দিচ্ছে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দাঁড়িয়ে গাছের ছায়ায়। হঠাৎ নিরাপত্তা কর্মীরা আহ্বান জানিয়ে বললো, সারিবদ্ধ হয়ে তোমরা ভিতরে যেতে পারবে। তবে সবার প্রেস কার্ড থাকতে হবে।

আমি, রুপক সাহা নিরাপত্তা বেস্টনি পার হয়ে পাশাপাশি হাঁটছি। ভেতরে এসেই মন জুড়িয়ে গেলো। পরপর তিন-চারটি মাঠ। যেন সবুজ ঘাসের কার্পেট বিছিয়ে রাখা। মাঠগুলো একটু উঁচু জায়গায়। একটু নিচুতে বাংলোর সারি। পাশে জিমনেশিয়াম। সুইমিংপুল। গোটা কলেজ ক্যাম্পাসটাই যেন সুনসান সাজানো গোছানো।

মাঠের চারপাশে ফিতে দিয়ে ঘেরা। পাশ দিয়ে যাবার সময় চোখে পড়লো ক্যানিজিয়া, গয়কোসিয়া, বাতিস্তুতারা অনুশীলন করছেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে। মাঠে অসংখ্য বল গড়াগড়ি খাচ্ছে। চোখ জুড়িয়ে গেলো তারকা ফুটবলারদের প্র্যাকটিস দেখে দেখে।

কিস্তু মারাদোনা কই? তাকে তো দেখছি না! তবে কি মারাদোনা প্র্যাকটিস করবেন না? এমন যখন ভাবছি, তখন সার্জেইয়ের সাথে দেখা। সার্জেই জানালো, ‘দিয়েগো এখনও আসেনি, তবে আসবে।’

মাঠের একপাশে আর্জেন্টাইন এক টিভি চ্যানেল প্রস্তুত। দিয়েগোর ইন্টারভিউ সরাসরি সম্প্রচার করবে। এক সময় মাঠের একপাশে ছুটোছুটি লেগে গেলো। ফটোসাংবাদিকরা ছুটলেন সেদিকে। চারপাশে রব, দিয়েগো আসছে। আর্জেন্টাইন জাতীয় দলের বিখ্যাত ‘১০ নম্বর’ জার্সি গায়ে। ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরার সাটার চলছে। ফ্ল্যাশ জ্বলছে।

মারাদোনার এক হাতে টেনিস বল। অন্য হাতে লেমনেডের বোতল। ‘ওলে ওলে’ বলে মারাদোনা আমার সামনে দিয়ে হেঁটে হেঁটে সোজা গিয়ে দাঁড়ালেন টিভি ক্যামেরার সামনে। মাঠের সব ভিড় মারাদোনাকে ঘিরে। টিভি রিপোর্টার প্রশ্ন করছিলেন আর মারাদোনা উত্তর দিচ্ছিলেন। প্রায় আধঘণ্টা চললো ইন্টারভিউ।

তন্ময় হয়ে তাকিয়ে থাকলাম মারাদোনার দিকে। সর্বকালের সেরা ফুটবলার আমার চোখের সামনে। ইন্টারভিউ শেষ করে প্র্যাকটিসে ভিড়ে গেলেন মারাদোনা। ছোট গোল পোস্ট বানিয়ে একদিকে ক্যানিজিয়া-বাতিস্তুতাকে রেখে আর গয়কোসিয়াকে পাশে নিয়ে খেলায় মন দিলেন। নিজে গোল করলেন আবার ক্যানিজিয়াদের করা গোল নিয়ে তর্ক জুড়ে দিলেন। হাসি-ঠাট্টায় গড়িয়ে চললো অনুশীলন।

দূরে দাঁড়িয়ে তন্ময় হয়ে দেখছি, জগৎ সেরা ফুটবলারের অনুশীলন। বেশকিছু সময় অনুশীলনের পর গয়কোসিয়াকে গোল পোস্টের নিচে রেখে চললো স্পট কিক। কর্নার কিক অনুশীলন। পেনাল্টি এবং পেনাল্টি সীমানার বাইরে থেকে ডেড বল বা সেট পিস থেকে মারাদোনা, অবলীলায় বল রেখে গেলেন জালে। আবার দু’পাশ থেকে বল ভাসালেন গোলমুখে। সে বলে নিপুণ হেডে গোল করে গেলেন বাতিগোল, ক্যানিজিয়ারা।

প্রায় দু’ঘণ্টা রোদে পুড়ছি, তা নিয়ে ভাবনা নেই। মনজুড়ে শুধুই মারাদোনা আর মারাদোনা। অনুশীলন শেষে মারাদোনা এলেন সাংবাদিকদের সামনে। আমরা যে জায়গায় দাঁড়িয়েছি, তার পাশে। সবাই ডাকছেন দিয়েগো দিয়েগো। মারাদোনা ‘ওলে ওলে’ বলে এক আর্জেন্টাইন প্রমীলা সাংবাদিককে গলায় জড়িয়ে নিলেন। আর্জেন্টাইন টি শার্টে অটোগ্রাফ দিলেন।

Dilu-vai-maradona-1

দু’তিন সাংবাদিকের সাথে কথা বলে সর্বকালের সেরা ফুটবলার দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনা, আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন।
আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়। হতবাক।
সার্জেই বললো, ‘ইসলাম বলো কিছু!’

আমি হাতে ধরা আর্জেন্টাইন স্যুভেনির বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, ‘অটোগ্রাফ প্লিজ।’
আমার হাত থেকে স্যুভেনির আর কলম নিয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন মারাদোনা।

জানতে চাইলাম, ‘এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা কতোটা (সার্জেই ওদের ভাষায় পাড়লো প্রশ্নটা)।’ 

ফুটবল জাদুকর মারাদোনা বললেন, ‘আমাদের শুরুটা বেশ ভালো হয়েছে। এবার আমরা অনেকটা পথ পাড়ি দেবো। আর তার জন্য আমরা ভালোভাবে তৈরি হয়ে এসেছি।’

আমি মারাদোনার হাতের মাংশপেশি দেখছি। নিরাপত্তাকর্মী বলে উঠলো, ‘ডোন্ট টাচ।’
পাশে দাঁড়ানো সার্জেই বললো, ‘এটা তোমার বিষয় নয়।’

আমি মারাদোনার হাতে চাপ দিচ্ছি। মারাদোনার হাতের পেশি শক্ত করলেন। টেনিস বলের মতো হয়ে ফুলে উঠলো মারাদোনার মাংশপেশি। আরো জোরে চেপে ধরলাম; কিস্তু এতটুকু দাবাতে পারলাম না। যেন লোহার মতো শক্ত, সুদৃঢ মারাদোনার শরীর। মারাদোনা তাকিয়ে আমার দিকে। আর অটোগ্রাফ দিয়ে স্যুভেনিরটা আমার হাতে ফিরিয়ে দিলেন।

আমি তন্ময় হয়ে চেয়ে আছি ফুটবল জাদুকরের দিকে। মারাদোনা হেসে চলে গেলেন, অন্য এক সাংবাদিকের কাছে। ক্লান্তি নেই। বিরক্তি নেই। আমি নির্বাক। মুগ্ধ হয়ে মারাদোনার কথা ভাবছি। আর দেখছি মারাদোনাকে। আরো কিছুটা সময় অটোগ্রাফ দিয়ে মারাদোনা ফিরে গেলেন তার বাংলোর দিকে।

ভাবছি কতটা ভাগ্যবান আমি! বিশ্বকাপে মারাদোনার খেলা দেখেছি। রিপোর্ট লিখেছি। মারাদোনার সাথে কথা বলেছি। অটোগ্রাফ নিয়েছি। মারাদোনার প্র্যাকটিস দেখেছি। ফুটবল ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাটা হৃদয় জুড়ে জায়গা করে নিয়েছে। তা নিয়ে ভাবনায় কেটে গেল বেশকিছু সময়।

তন্ময় ভাবটা কেটে গেল রুপক সাহার কথায়, কি হলো দিলু যাবে না মিডিয়া সেন্টারে? পেশাদার ক্রীড়া সাংবাদিকতা জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি হিসেবে এই ঘটনা আজও অমলিন, আমার কাছে।

আইএইচএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]