জাতীয় ভারোত্তোলনে তাক লাগালেন কিশোরগঞ্জের কিশোরী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ১৭ জুন ২০২৩

বৃষ্টি আক্তারের বয়স যখন এক বছর, তখন একটি দুর্ঘটনায় মারা যান তার বাবা। মা আরেকটি বিয়ে করে ঘর-সংসার পাতেন। বৃষ্টির ঠাঁই হয় নানার ঘরে। সেখানেই বেড়ে ওঠা এই অনাথ বালিকা তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ১৬তম জাতীয় সিনিয়র ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায়।

শনিবার ভারোত্তোলন ফেডারেশনের জিমন্যাশিয়ামে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে দিনাজপুরের ১৭ বছর বয়সী বৃষ্টি আক্তার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হামিশা পারভীনকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছেন।

বৃষ্টি খেলেছেন বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির হয়ে। তবে তাকে ভারোত্তোলক হিসেবে গড়ে তুলেছেন জাতীয় অ্যাথলেটিকসে চাকতি নিক্ষেপে (ডিসকাস) ৪৫টি স্বর্ণ জেতা আজহারুল ইসলাম খান।

কিশোরগঞ্জে আজহারুলের নিজের নামে গড়া একাডেমিতে অনুশীলন করা এই মেয়ে জাতীয় ভারোত্তোলনে দ্বিতীয়বার অংশ নিয়েই স্বর্ণ জিতলেন। সারা বছর ট্রেনিংয়ে থাকা অনেক অভিজ্ঞ ভারোত্তোলককে টপকে মফস্বল থেকে উঠে আসা বৃষ্টির স্বর্ণ জয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ভারোত্তোলন অঙ্গনে।

বৃষ্টি ৪৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্ন্যাচে ৫৩ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে রেকর্ড ৬৮ কেজিসহ মোট ১২১ কেজি তুলে এ ইভেন্টে নতুন রানি হয়েছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হামিশা পারভীন ১১৯ কেজি তুলে পেয়েছেন রৌপ্য।

বৃষ্টির স্বর্ণ পাওয়ায় দারুণ খুশি আজহারুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল থেকে উঠে আসা একটি মেয়ে যেভাবে স্বর্ণ জিতলো, তা ভাষায় প্রকাশের মতো না। খুশিতে আমি কথাই বলতে পারছি না। বলতে পারেন আমি আনন্দে আত্মহারা।’

আজহারুল ইসলাম খান ৫৩ বছর বয়সেও অংশ নিয়ে থাকেন জাতীয় অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপে। ঝুলিতে আছে ৪৫টি স্বর্ণ। তিনি একসময় ভারোত্তোলনও খেলতেন। এ ডিসিপ্লিনেও তার আছে ৪ স্বর্ণ।

তিনি যে একাডেমি তৈরি করেছেন, সেখানে অ্যাথলেটিকসের পাশাপাশি ভারোত্তোলনেও ট্রেনিং করান। ৬ জন মেয়ে নিয়ে তিনি এসেছেন জাতীয় ভারোত্তোলনে।

আরআই/এমএমআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।