ডিভাইসের ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স ও ওয়াটার প্রুফের মধ্যে পার্থক্য কি?
স্মার্ট ডিভাইসের ক্ষেত্রে ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স এবং ওয়াটার প্রুফ শব্দ দুটি প্রায়ই একসঙ্গে ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্য বোঝা জরুরি, কারণ ভুল ধারণার কারণে অনেকেই ডিভাইস পানিতে ফেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন।
ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট
প্রথমে ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট বিষয়টি বোঝা যাক। ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট ডিভাইস বলতে এমন ডিভাইসকে বোঝায় যেটি পানি থেকে সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত নয়, তবে নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত পানি প্রতিরোধ করতে সক্ষম। যেমন হালকা বৃষ্টি, ঘামের ছিটা, বা অল্প সময়ের জন্য পানির সংস্পর্শে আসা এই ধরনের পরিস্থিতিতে ডিভাইসটি সাধারণত ঠিক থাকে। তবে এটি দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবিয়ে রাখার জন্য তৈরি নয়। পানির চাপ বা সময় বেশি হলে ভেতরের সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্যই বেশিরভাগ স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ বা ইয়ারবাডে IP67 বা IP68-এর মতো রেটিং দেওয়া থাকে, যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পানি প্রতিরোধের ক্ষমতা নির্দেশ করে।
ওয়াটার প্রুফ
ওয়াটার প্রুফ শব্দটি শুনে মনে হতে পারে ডিভাইসটি সম্পূর্ণভাবে পানির প্রভাব থেকে মুক্ত। অর্থাৎ পানির যত গভীরেই বা যত সময়ের জন্যই থাকুক না কেন, ডিভাইসের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু বাস্তবতায় ওয়াটার প্রুফ ধারণাটি বেশিরভাগ সময়ই মার্কেটিং ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সম্পূর্ণভাবে পানি প্রতিরোধী বা ১০০ শতাংশ ওয়াটার প্রুফ ডিভাইস বাজারে খুবই বিরল। কারণ প্রযুক্তিগতভাবে দীর্ঘ সময় বা গভীর পানির নিচে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত কঠিন।
এই দুইটির মূল পার্থক্য হলো ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট ডিভাইস নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পানি সহ্য করতে পারে, কিন্তু ওয়াটার প্রুফ ডিভাইসকে সাধারণত সম্পূর্ণ পানি-নিরাপদ বলে বোঝানো হয়, যা বাস্তবে সবসময় সত্য নয়। তাই ওয়াটার প্রুফ শব্দটি যতটা শক্তিশালী শোনায়, বাস্তবে সেটির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা নিরাপদ নয়।
কেএসকে