জকসুর ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান প্যানেল

নির্বাচন কমিশন কালো টাকার কাছে মাথা নত করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান প্যানেল। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় ভাষা শহীদ রফিক ভবনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনজুড়ে নানান অনিয়ম, আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফয়সাল মুরাদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনকে পরিকল্পিতভাবে দুটি শক্তিশালী বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে।

তার দাবি, ‘আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রে কোনো স্লিপ বা তালিকা দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও সকাল ১০টার মধ্যেই সেই নিয়ম ভেঙে দেওয়া হয়। পোলিং এজেন্টদের হাতে পুরো প্যানেলের তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছে, যা বিশেষভাবে একটি সংগঠনের মাধ্যমে বিতরণ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় না করে কার্যত নির্বাচনকে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নামিয়ে এনেছে। কালো টাকা ও পেশিশক্তির কাছে মাথা নত করা হয়েছে। একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

ফয়সাল মুরাদ আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘ভোটারদের প্রভাবিত করতে খাবার বিতরণ ও মেধাবৃত্তির নামে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন পুরো নির্বাচনজুড়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল—এই দুই বলয়ের মধ্যেই আবদ্ধ ছিল, ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী কিশোর সাম্য বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ঘটেছে এবং এতে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন।

তার ভাষায়, একজন ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীকে ভয়ংকরভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। যে ব্যালট ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, তা কার্যত প্রহসনের নির্বাচন। ক্যাম্পাসের বাইরে একাধিকবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

২০ বছর পর জকসু নির্বাচন দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে জকসু ও হল সংসদ নির্বাচন–২০২৫। ২০ বছরের অচলায়তন ভেঙে এই নির্বাচনে ১৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।

এর আগে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন তারিখ হিসেবে ৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। জকসু নির্বাচনের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। কেন্দ্রীয় সংসদে ১৬ হাজার ৬৪৫ জন এবং হল সংসদে ১ হাজার ২৪২ জন ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসের তিনটি বড় ডিজিটাল বোর্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভোটের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের ফল সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষণা করবেন এবং পরে সব কেন্দ্রের ফল সমন্বয় করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচনি সহিংসতা এড়াতে ক্যাম্পাসে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো ক্যাম্পাস ও ভোটকেন্দ্রগুলো সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।

এমডিএএ/এমআইএইচএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।