জকসু নির্বাচন

ভোট গণনা স্থগিত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:২৯ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
জকসু নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে/ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপটিক্যাল মার্ক রেকগনিশন (ওএমআর) মেশিনে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর ব্যালট বাক্স ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ক্যাম্পাসের বাইরেও নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভোট গণনা শুরু হলেও কিছু সময়ের মধ্যেই ওএমআর মেশিনে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোট গণনার জন্য প্রস্তুত ছয়টি ওএমআর মেশিনের একাধিকটিতে প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দেয়, ফলে গণনা প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে থেকে সহকারী নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, একই তথ্য ব্যবহার করেও বিভিন্ন মেশিনে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। অভিন্ন ও নির্ভুল ফলাফল নিশ্চিত করতে কমিশন কাজ করছে। এই কারণেই আপাতত ভোট গণনা স্থগিত রাখা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন। বৈঠক শেষে ভোট গণনা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এর আগে, নির্বাচন কমিশন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে ভোট গণনা শুরুর ঘোষণা দেয়। গণনা বন্ধের পর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়।

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান জাগো নিউজকে বলেন, জকসু নির্বাচনের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। কেন্দ্রীয় সংসদে ১৬ হাজার ৬৪৫ জন এবং হল সংসদে ১ হাজার ২৪২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান।

নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো ক্যাম্পাসে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ক্যাম্পাস ও প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি কন্ট্রোল রুমও খোলা ছিল।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২০ বছর পর অনুষ্ঠিত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে দিনভর ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর এতদিন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সুযোগ পায়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে নতুন তারিখ হিসেবে ৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এমডিএএ/এমএমকে

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।