মাভাবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনে তালা, বিক্ষোভ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন ভাতা বৃদ্ধি ও অস্থায়ীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বুধবার সকালে প্রশাসনিক ভবনে তালা, অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা।
দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সময় উপ-রেজিস্ট্রার মু. হারুন আর রশিদকে গালিগালাজ করে কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে ভবন তালা মারে। ভবনে তালা দেয়া শেষে বিভিন্ন দাবি দাওয়ার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
আন্দোলনকারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক জানান, বর্তমান ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদার করার পর থেকে মেধা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের বছরে ৭০% প্রমোশনের নিয়মটি বন্ধ করে দেন।
একইভাবে গত ৪ বছর ধরে কর্মরত অস্থায়ীদের স্থায়ীকরণ হয়নি। এছাড়া দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ৮ ঘণ্টা ওভারটাইম বাবদ ৪৭০ টাকা প্রদান করা হলেও তাদের দেয়া হচ্ছে ১৪৪টাকা। এছাড়া পোশাকসহ বিভিন্ন সুবিধা বন্ধ থাকার প্রতিবাদে ও দাবি আদায়ের লক্ষে তাদের এ কর্মসূচি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি অনুপস্থিত থাকার কারণে অন্যান্য কর্তৃপক্ষ ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধে দুপুরে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। সেই সঙ্গে আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠকে এ দাবির বিষয়ের উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক কর্মকর্তা জানান, ভিসি প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিন, পিএস আব্দুল্লাহ আল রিপন যোগদানের পর থেকে ও উপ-রেজিস্ট্রার মু. হারুন আর রশিদের যোগসাজশে তাদের এ দাবি দাওয়া পূরণ হচ্ছে না বলেই কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মু. হারুন আর রশিদ আন্দোলনের বিষয়টি স্বীকার করলেও তাকে অবরুদ্ধ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. সিরাজুল ইসলাম আন্দোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, ভিসি স্যার ঢাকায় অবস্থান করায় এ বিষয় নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি। আন্দোলনরতদের দাবিগুলো নিয়ে ভিসি স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে একটি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট কর্মচারীর ৩০১ সংখ্যা জন। এর মধ্যে অস্থায়ী বা মাস্টাররোলে কর্মরত রয়েছেন ৬১ জন।
আরিফ উর রহমান টগর/এএম/পিআর