তুখোড় ছাত্রদল কর্মী এখন ছাত্রলীগ নেতা!
বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন রেখে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও এক সময়ের তুখোড় ছাত্রদল কর্মী হয়েও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশ।
ফেসবুক ভাইরালের মাধ্যমে এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাজিব মোল্লার বিরুদ্ধে।
এর প্রতিবাদে ও তাদের বহিষ্কারের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাংশ। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিক্ষোভকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বাধা প্রদান করে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তাদের প্রটোকল দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে নুরনবী হোসেন, দুরুল হুদা সাদ্দাম, গালিব আহমেদ, মো. ওমর ফারুক, নাজিম উদ্দিন ও মানিক শীল বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগে বিবাহিত ব্যক্তিদের কোনো জায়গা নেই। সাইদুর রহমান তার বিয়ের তথ্য গোপন করে পদের লোভে ছাত্রলীগের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। রাজিব মোল্লা যিনি বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট।
তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুকে) ওই নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করে সকল জনগণকে ভোট না দিতে প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানান।
এ সময় বক্তারা আরও বলেন, আমরা ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীরা সাইদুর ও রাজিব মোল্লার মতো বিবাহিত, মিথ্যাবাদী, প্রতারক, বেঈমান ও বিএনপির এজেন্টদের বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠনের নেতৃত্বে দেখতে চাই না। অবিলম্বে তাদেরকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মতো গৌরব ও ঐতিহ্য বহনকারী সংগঠন থেকে বহিষ্কার চাই।
এ প্রসঙ্গে মাভাবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান তার বিরুদ্ধে উঠা বিয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের নিয়ে বিএনপি-জামায়াত চক্রের কিছু সদস্য ষড়যন্ত্রে নেমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ২০১৩ সালের ২০ মে মাহ্ফুজা আক্তার রাখি নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন।
রাজিব মোল্লা যিনি বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট। তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগের রাতে ফেসবুকে ওই নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করে জনগণকে ভোট না দিতে প্রতিজ্ঞার আহ্বান জানান।
আরিফ উর রহমান টগর/এএম/আইআই