রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েই অবহেলিত বেগম রোকেয়া

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বেরোবি
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) নিজ নামে নামকরণ করা হলেও সেখানেই অবহেলিত বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড় দেড়যুগে পা রাখলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেই বেগম রোকেয়ার কোনো স্মৃতিচিহ্ন বা ম্যুরাল। এমনকী নেই রোকেয়াবিষয়ক চর্চার কোনো সুব্যবস্থা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ২০০৮ সালে এটি রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামানুসারে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির উদ্বোধন করেন। বর্তমানে উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি সারাদেশের ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় অবদান রাখছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

তবে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই নানান কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কদর নেই’ বেগম রোকেয়ার। যেন শুধু নামেই ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়’। ৯ ডিসেম্বর ‘রোকেয়া দিবস’ এলে নামমাত্র র্যালি ও আলোচনা সভাতেই সীমাবদ্ধ থাকে সব কার্যক্রম। তার আদর্শ চর্চার বিষয়ে তেমন গুরুত্ব ও ব্যবস্থা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল জলিল মিয়ার মেয়াদকালে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘রোকেয়া স্টাডিজ’ নামে ১০০ নম্বরের দুটি কোর্স প্রতিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়। যা সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হয়। কিন্তু তৎকালীন উপাচার্য দুর্নীতির দায়ে অপসারিত হওয়ার পর ওই দুটি বিষয় আর চালুর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবীর চার বছরের মেয়াদকালেও ‘রোকেয়া স্টাডিজ’ কোর্সটি চালুর বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ যোগ দেন। তার এক বছরের মাথায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে ডিনস কমিটির সভা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি বিভাগের সব শিক্ষার্থীর জন্য এবং ২০১৭-১৮ সেশনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে ‘রোকেয়া স্টাডিজ’ কোর্সটি নন-ক্রেডিট হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হয়।

বেগম রোকেয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কোনো স্মৃতিচিহ্ন, ম্যুরাল বা প্রতিকৃতি না থাকা এবং রোকেয়াবিষয়ক চর্চার সুব্যবস্থা না থাকায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদ ইসলাম বলেন, ‘নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামে বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পরিচয় বহনকারী কোনো স্মৃতিস্তম্ভ না থাকায় প্রায়ই শিক্ষার্থীদের নানা ট্রলের শিকার হতে হয়। যা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে মেনে নেওয়া কষ্টকর। বিভিন্ন দিবসে অস্থায়ী প্রতিকৃতি বানিয়ে আর কতদিন দায়সারা কাজ চলবে? অতিদ্রুত মূল ফটকসহ ক্যাম্পাসে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হোক, এটা আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি।’

বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু সালেহ মোহাম্মদ ওয়াদুদুর রহমান (তুহিন ওয়াদুদ) বলেন, ‘রোকেয়া স্টাডিজ’ কোর্সটা অনেকদিন আগে অনুমোদন হয়েছে। এটা বাস্তবায়নের কথা আমরা বলে আসছি। রোকেয়া স্টাডিজ শিক্ষার্থীদের দুটি কারণে জানা দরকার। প্রথমত রোকেয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এবং দ্বিতীয়ত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে যখন বাইরে যাবে তখন রোকেয়া সম্পর্কে সম্যক ধারনা যেন থাকে। রোকেয়া বিষয়ে লেখাপড়া করা, তার চিন্তা, দর্শন আমাদের জানা জরুরি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘আমাদের উপাচার্য বেশ শিক্ষার্থীবান্ধব। তিনি সেশনজট নিরসন করাকে মেজর বিষয় হিসেবে দেখছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হবে বেরোবি। এরপর স্যার ক্রমানুসারে বাকি উন্নয়নমূলক কাজ করবেন আশা করা যায়।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশিদ বলেন, আলাদাভাবে রোকেয়া স্টাডিজ কোর্সটি থাকবে না, বিভিন্ন বিভাগে বাংলাদেশ স্টাডিজ কোর্সের মাধ্যমে রোকেয়ার জীবনকর্ম, রোকেয়া চর্চা, দর্শন প্রধান্য থাকবে।

তিনি বলেন, রোকেয়ার ম্যুরাল নির্মাণের বিষয়ে আমাদের আন্তরিকতা আছে। সরকারের আর্থিক কৃচ্ছতাসাধন নীতির কারণে এবছর বাজেট সংকুলান হয়নি। এবছর আমরা মূল ফটক নির্মাণ করছি। পরবর্তী সময়ে যতদ্রুত সম্ভব বেগম রোকেয়ার ম্যুরাল নির্মাণ করা হবে।

এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।