শ্লীলতাহানির পর ছাত্রীকেই কান ধরে ঘোরানো : প্রতিবাদে মানববন্ধন
দিনাজপুরে স্কুল শিক্ষক কর্তৃক ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের পর চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওই ছাত্রীকে অন্যায়ভাবে কান ধরে পুরো স্কুলে ঘোরানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে নারীরা।
জড়িত ওই শিক্ষক ও তার অপকর্মকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাকারীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে দিনাজপুরে মানববন্ধন করেছে অভিভাবকসহ জেলার বিভিন্ন স্তরের নারীরা।
সোমবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে দিনাজপুর সচেতন নারী সমাজের ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে তারা দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।
কর্মসূচি চলাকালে ওই ছাত্রীর অভিভাবকসহ অন্যরা জানান, ওই বিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে ১টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৪টা থেকে ৮টা পর্যন্ত দুই শিফটে ক্লাস হয়। গত ২৫ এপ্রিল রাতে ওই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে একা পেয়ে বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক তপু রায় তার শ্লীলতাহানি ঘটায়।
পরে ওই ছাত্রী বাড়িতে এসে অভিভাবককে জানালে অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমৃত সাহা সেতু ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করেন এবং ঢাকা থেকে চেয়ারম্যান আসলে বিষয়টি নিয়ে বসা হবে বলে জানান।
এদিকে বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান নয়ন ঢাকা থেকে দিনাজপুরে আসলে ওই ছাত্রী ও তার অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে যান। কিন্তু চেয়ারম্যান অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করার অভিযোগে ওই ছাত্রীকে কান ধরে পুরো বিদ্যালয় ঘোরার আদেশ দেয়। অন্যথায় ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে জানিয়ে দেন।
পরে ওই ছাত্রী বাড়িতে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করতে গেলেও সেখানে মামলা না নেয়ায় দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কর্মসূচিতে রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ উপস্থিত সকলেই ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে ওই ছাত্রীর অভিভাবক ও নারী নেত্রীরা দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলেয়া বেগম স্বপ্না ও উপস্থিত ছিলেন মেয়ের মা সৈয়দা সেলিনা মমতাজ, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসমিন লুনা, আইরিন লতিফ, সেলিনা আকতার ছবি, সাহানাজ বেগম সেলি, হাসিনা আক্তার শিউলী ও মাসুদা বেগম মুক্তা প্রমুখ।
এ বিষয়ে স্কুলের চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান নয়নের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি এখন ঢাকায় আছি। দিনাজপুরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
এমদাদুল হক মিলন/এফএ/এবিএস