সখীপুরে ২৫ কোটি টাকার আম উৎপাদন


প্রকাশিত: ০৮:০৬ এএম, ২৯ জুন ২০১৬

টাঙ্গাইলের সখীপুরে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদিত আমের বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

আম চাষ লাভজনক হওয়ায় এ উপজেলায় আম চাষীর সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। উপজেলার কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে হারে আমচাষে কৃষকরা এগিয়ে আসছেন অল্পদিনেই সখীপুর চাপাইনবাবগঞ্জকেও ছাড়িয়ে যাবে।  
      
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ উপজেলার ২০ জন চাষীকে ১০০টি করে আম্রপালি চারা দিয়ে প্রদর্শনী প্লট করে দেন। তিন বছরের মাথায় ওই সব প্রদর্শনীতে আমের ব্যাপক ফলন পেতে থাকে চাষীরা। এরপর থেকেই শুরু হয় ব্যক্তি উদ্যোগে আম চাষ।

সখীপুরে বর্তমানে প্রায় ৪০০ আম চাষী ৬০০ একর জায়গা জুড়ে আম চাষ করছেন। এছাড়া প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় কমবেশি আম গাছ রয়েছে। এসব আম বাগান থেকে চলতি মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৬০০ মে.টন। উৎপাদিত আমের বাজার দর হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

Sakhipur-Mango

এখানে দুর্লভ বারি-৪ ছাড়াও মল্লিকা, পালমার, পাল্লুতান, মহানন্দা, গোপালভোগ, গোপাল খাস, প্রাপ্তি, দশোরী, বিশ্বনাথ চ্যাটার্জি, ফজলি, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগসহ প্রায় ৩৫ জাতের আম চাষ হচ্ছে। তবে সখীপুরের মাটি আম্রপালি’র (বারি-৪) জন্য উপযোগী বলে আম চাষীরা জানান।

এ আম সখীপুরের চাহিদা পূরণ করে চলে যাচ্ছে জেলা শহর টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
      
উপজেলার সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও বড় আম চাষী দেলোয়ার হোসেন বলেন, সখীপুরের মাটি ও পরিবেশ আম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এ বছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি বছর আম মৌসুমের শুরুতেই ঢাকার কারওয়ান বাজার, বাদামতলী, সদরঘাটসহ দেশের অন্যান্য মোকাম থেকে আগাম বাগান কিনে নেন বলে স্থানীয় আম চাষীরা লাভবান হয়।

তিনি বলেন, আমের সংরক্ষণাগার থাকলে চাষীরা আরও অধিক লাভবান হতেন।  এছাড়াও উৎপাদিত আম বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় মধ্যসত্ত্বভোগীরা লাভের বড় অংশ লুফে নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, বিপণনের স্বার্থে কানসাটের মতো আমের বাজার স্থাপন করা দরকার। দিন দিন আম বাগান বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পর্যাপ্ত আমের ফলন হওয়ায় আম চাষীদের কল্যাণে দ্রুত একটি আম গবেষণা সেন্টার গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি দাবি জানান তিনি।
       
এ ব্যাপারে সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফায়জুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, উপজেলাটি পাহাড়িয়া অঞ্চলে হওয়ায় এখানকার মাটিতে এক ধরনের খনিজ উপাদান রয়েছে যা আম উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

এসএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।