সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি: যা বলছে যশোরের জেলা প্রশাসন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০১:১২ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদনের তথ্য যশোরের জেলা প্রশাসক পাননি। ফলে ‘আমলাতান্ত্রিক এই জটিলতায়’ সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি ঝুলে যায়।

অবশেষে মুক্তি না মেলায় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মৃত স্ত্রী ও সন্তানকে বাগেরহাট থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হলে জেলগেটেই শেষ বিদায় জানান যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি।

এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সাদ্দাম বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

সাদ্দামের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির জন্য তারা বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় তারা শনিবার স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসেন। এখানেই তাদের শেষ বিদায় জানান সাদ্দাম।

বিষয়টি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিনের একটি আবেদনও ছড়িয়ে পড়ে। বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর এই আবেদনে হাজতি জুয়েল হোসেন সাদ্দামের স্ত্রী ও শিশু সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে যশোর কারাগারে আবেদনটি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি: যা বলছে যশোরের জেলা প্রশাসন

কিন্তু এই অনুরোধ যশোরের জেলা প্রশাসক ও কারা কর্তৃপক্ষ পায়নি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘বাগেরহাট কারাগার থেকে গত ১৫/১২/২০২৫ তারিখে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আগত বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দাম নামক ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো ধরনের আবেদন করা হয়নি। বরং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেল গেটে মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দির স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এছাড়া আবেদনের পরও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি, এ ধরনের তথ্যও মিথ্যা। কারণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে।’

বিজ্ঞপ্তির পর বাগেরহাটে আবেদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন তারা পাননি। বাগেরহাটে আবেদন করার ব্যাপারে তিনি অবগত নন। বাগেরহাট জেলা প্রশাসন থেকেও তাদের কাছে কোনো আবেদন পাঠানো হয়নি।

সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি: যা বলছে যশোরের জেলা প্রশাসন

অন্যদিকে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে একজন বাংলোতে এসে একটি আবেদন রেখে গিয়েছিলেন। বাংলোর সি.এ তাকে বুঝিয়ে বলেছেন, আবেদনটি যশোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে করতে হবে। এছাড়া তিনি বিষয়টি যশোর কারাগারেও জানিয়েছেন। আবেদনকারীরা পরবর্তীতে আর যোগাযোগ করেননি।’

তবে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, ‘সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। উনি তো মার্ডার মামলার আসামি না। রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মুক্তি না পাওয়ায় আমরা অনেকেই এসেছি কারাগারে। কিন্তু ছয় জনের বেশি প্রবেশ করতে দেয়নি। সাদ্দামের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা নির্দয়, দুঃশাসন। মানবিক দিক থেকেও আজ প্যারোলে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।’

সাদ্দামের শ্যালিকা কারাফটকে আহাজারি করতে করতে সাংবাদিকদের বলছিলেন, ‘এই রাজনীতির এই পরিণাম হলো! সে তো খুনি না। রাজনৈতিক ছোট একটা মামলা। তাও প্রশাসন তাকে ছাড়লো না! সাদ্দাম আমার দুলাভাই না, বড় ভাই ছিল। সে কখনো কান্না করেনি। আজ নির্মম পরিসরে তাকে কান্না করতে দেখেছি। তাকে কিছুক্ষণ জামিন দিয়ে স্ত্রী সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া উচিত ছিল।’

মিলন রহমান/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।