কেন আপনাকেই মশা বেশি কামড়ায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৫১ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছেন। অন্যরা গল্পে মেতে থাকলেও মশার দল যেন আপনাকেই নিশানা করছে। যে জায়গাতেই যান, মনে হয় মশাদের আনাগোনা শুধু আপনাকে ঘিরেই। তখন মনে প্রশ্ন জাগে-মশা কি সত্যিই আপনাকে অন্যদের চেয়ে বেশি কামড়ায়, নাকি পুরো ব্যাপারটাই কেবল আপনার অনুভূতি? উত্তর হলো-হ্যাঁ, মশা আপনাকে আসলেই বেশি কামড়ায়। শুধু আপনি নন, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষই মশার এই অতিরিক্ত ‘ভালোবাসা’র শিকার।

মশা বেশি কেন কামড়ায়
কেন কাউকে বেশি, কাউকে কম কামড়ায় মশা-এই প্রশ্নের মুখোমুখি আমাদের অনেককেই হতে হয়। কারো গায়ে মশার ভিড় লেগেই থাকে, আবার কেউ আশপাশে মশা থাকলেও তুলনামূলকভাবে রেহাই পান। এই পার্থক্যের কারণ কী, তা নিয়ে কৌতূহল থাকাই স্বাভাবিক।

শুধু স্ত্রী মশারাই কেন কামড়ায়?
সব মশা কামড়ায় না-শুধু স্ত্রী মশারাই কামড়ায়। কারণ ডিম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তারা মানুষের রক্ত থেকেই সংগ্রহ করে। আর শিকার খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে স্ত্রী মশাদের ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রখর।

আসুন জেনে নেওয়া যাক মশা কেন বেশি কামড়ায়-

কার্বন-ডাই-অক্সাইডই বড় সংকেত
কার্বন-ডাই-অক্সাইডই মশার জন্য সবচেয়ে বড় সংকেত হিসেবে কাজ করে। স্ত্রী মশা মূলত মানুষের শরীর থেকে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও স্বাভাবিক গন্ধ শনাক্ত করেই তাদের শিকারের সন্ধান পায়। যাদের শরীর থেকে তুলনামূলক বেশি পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, মশারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের দিকেই বেশি আকৃষ্ট হয়।

এ কারণে যাদের ওজন বেশি, তাদের মশার কামড় বেশি খেতে হয়। একইভাবে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রেও মশার কামড়ের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, কারণ এ সময় শরীর থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নির্গমন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০০০ সালের দিকে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মশা কামড়ানোর হার প্রায় দ্বিগুণ।

ঘাম, গরম আর ব্যায়াম
ব্যায়াম বা প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রমের পর মশার কামড় বেশি খেতে হয়। কারণ তখন শরীর থেকে ল্যাকটিক অ্যাসিড নিঃসৃত হয়, তাপমাত্রা বাড়ে এবং ঘামের গন্ধ তৈরি হয়। এসব সংকেত মশার কাছে খুব সহজেই ধরা পড়ে।

জিনগত প্রভাবে
জিনগত কারণেও কারো কারো ত্বক থেকে এমন কিছু রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা মশাকে বেশি আকৃষ্ট করে। অর্থাৎ আপনি চাইলেও এই বিষয়টি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

রক্তের গ্রুপও ভূমিকা রাখে
অদ্ভুত শোনালেও সত্যি-মশারাও রক্তের স্বাদে পার্থক্য বোঝে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে ‘ও’ এবং ‘এবি’ গ্রুপের রক্ত এশীয় মশাদের কাছে তুলনামূলক বেশি প্রিয়। ফলে রক্তের গ্রুপ যদি মশার পছন্দের তালিকায় থাকে, তাহলে আপনি সহজেই তাদের ‘ফেভারিট’ হয়ে উঠতে পারেন।

যেভাবে বাঁচাবেন
মশার কামড় শুধু বিরক্তিকরই নয়, বরং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো ভয়ংকর রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়। যেসব কারণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেগুলোর দিকেই নজর দেওয়া জরুরি।

ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া, আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, মশা তাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করা এবং হাত-পায়ের খোলা জায়গায় মশা নিরোধক লোশন ব্যবহার করতে পারেন। রক্তের গ্রুপ বা জিন বদলানো না গেলেও, সম্মিলিত সচেতনতা আর সঠিক অভ্যাসই মশাদের কামড় কমানো খাওয়া যেতে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ভেরিওয়েল মাইন্ড

আরও পড়ুন:
হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য পটাসিয়াম কেন জরুরি 
শৈশবের ট্রমা কি বড় হওয়ার পর প্রভাব ফেলে 

এসএকেওয়াই/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।