কাওড়াকান্দি ঘাট অব্যবস্থাপনায় ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ


প্রকাশিত: ০৭:৫৭ এএম, ০৪ জুলাই ২০১৬

বৈরী আবহাওয়ার মাঝে ঝড়-বৃষ্টিসহ চরম ভোগান্তি উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে নাড়ির টানে ছুটছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে রাতে ছিল ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। একই চিত্র দেখা গেছে সোমবার সকালেও।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিক যাত্রী নিয়ে পারাপার হচ্ছে ফেরিগুলো। আর ঘাট অব্যবস্থাপনার কারণে কওড়াকান্দি ঘাটে দেখা দূরপাল্লার পরিবহন সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে দেখা গেছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঈদ সামনে রেখে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন।

কাওড়াকান্দি ঘাট সূত্রে জানা যায়, ঘাটে দীর্ঘ যানজট আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ঘরমুখো যাত্রীদের প্রায় তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে দূরপাল্লার পরিবহনে উঠতে হচ্ছে।

Kawrakandi

অপরদিকে দূরপাল্লার পরিবহন সংকট সর্বত্র। আর এ সুযোগে ঘরমুখো যাত্রীদের কাছ থেকে দু-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া মাইক্রোবাস চালকরা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কাওড়াকান্দি লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটের সড়কে যত্রতত্রভাবে ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা, সবুজবাংলা রেখে গাড়িতে যাত্রী উঠাচ্ছে। ফলে লঞ্চ, স্পিডবোট থেকে যাত্রীরা নেমে মহাসড়কে উঠতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

মাইক্রো স্ট্যান্ডে যাত্রী উঠানোয় সড়কজুড়ে তীব্র যানজট। ঘাট এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার পথে তীব্র যানজট লেগে রয়েছে।

দীর্ঘ যানজটের সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা খুলনা, বরিশাল, ভাটিয়াপাড়া, মোকসেদপুর, নড়াইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, টরকিসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্ধ-শতাধিক রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

Kawrakandi

খুলনার যাত্রী সোনিয়া আক্তার ও আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, যানজটের কারণে ঘাট থেকে নেমে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ হেঁটে যাত্রীদের গন্তব্যের পরিবহনে পৌঁছাতে হচ্ছে। ফলে বৈরী আবহাওয়ায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে রাতে দুর্ভোগ নেমে এসেছে যাত্রীদের উপর। সেই রেশ সকালেও কাটেনি।

ভাটিয়াপাড়ার যাত্রী হুমায়ন করিব বলেন, আগে কাওড়াকান্দি থেকে ভাটিয়াপাড়ার ভাড়া ছিল ১০০ টাকা। এখন ৩৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ রকম প্রতিটি রুটেই দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়ার ব্যাপারে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার আ. সালাম মিয়া বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে যেকোন ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক যাত্রী ফেরিতে পারাপার হচ্ছেন। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে গাড়ির পরিবর্তে ফেরিতে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে বলেও জানা তিনি।

এ ব্যাপারে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান আহমেদ বলেন, কাওড়াকান্দি ঘাটে যাত্রীদের জন্য সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি লঞ্চ ঘাটের রাস্তার ছোট ছোট গাড়ি যানজট সৃষ্টি করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
 
এ কে এম নাসিরুল হক/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।