ভূয়াপুরে প্রকল্পতেই আটকে আছে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ!


প্রকাশিত: ০২:৩৭ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৬

টাঙ্গাইলের ভূয়াপুরের চারটি ইউনিয়নে যমুনা নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও ভাঙনরোধে কোনো কাজই করছে না টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি)। নামমাত্র প্রকল্পেই আটকে আছে যমুনা নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ। ফলে অতীতের মতই জোয়ার ও মৌসুমি বন্যায় বাস্তুহারা হচ্ছে শত শত মানুষ।

চলতি বর্ষায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও কোনো তৎপরতাই দেখাচ্ছে না পাউবো এমন অভিযোগ ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভয়াবহ ভাঙনে গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ী-কষ্টাপাড়া পাউবোর ২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দুই বছর আগেই নদীগর্ভে বিলীন গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পিকনা-জোকারচর বাঁধের অংশ।

নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ক্রমশ পূর্ব দিকে ধাবিত হচ্ছে। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে আরো কয়েকটি গ্রামের নাম। আর অব্যাহত এ ভাঙনে ছোট হয়ে যাচ্ছে ভূঞাপুর উপজেলার সীমানা।

গত কয়েকদিনে অর্জুনা ইউনিয়নের কুঠিবয়ড়া, চুকাইনগর ও অর্জুনা গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে।

গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, খানুরবাড়ি, ভালকুটিয়া, কোনাবাড়ি চর চিতুলিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নিকরাইল ও গাবসারা ইউনিয়নের চিত্র একই।

Tangail-Jamuna-River

এছাড়া ভাঙনের মুখে রয়েছে গোবিন্দাসী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি, কয়েকটি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির, পোল্ট্রি খামারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ইতোমধ্যে ফসলি জমিসহ কয়েক হাজার পরিবার নতুন করে গৃহহীন হওয়ার সম্ভাবনা তীব্র হয়ে উঠেছে।

অর্জুনা গ্রামের হাবিবুর রহমান ও চুকাইনগর গ্রামের আব্দুর রশিদ জানান, প্রাচীনকাল থেকেই যমুনা নদীর ভাঙনে বাড়িঘর হারাতে হচ্ছে। গত বছর বাড়ির জমি ভেঙে গেছে। এ বছর ঘরবাড়িসহ ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু সে বাড়িও দু-একদিনের মধ্যে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গোবিন্দাসী, নিকরাইল, অর্জুনা ও গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা জানান, কয়েক বছরে যমুনা নদীর ভাঙনে উপজেলার চারটি ইউনিয়নে হাজার হাজার পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। ফসলি জমি হারিয়ে কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে গেছে।

নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছে আরো বেশ কয়েকটি গ্রাম। বর্তমানে নদীতে পানি বাড়ায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অথচ ভাঙন রোধে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলেও অভিযোগ তাদের।

তবে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, যমুনা নদীভাঙন রোধে একাধিক প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দফতরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও সেগুলো অজ্ঞাত কারণেই অনুমোদন হচ্ছে না। তাই তারাও কিছু করতে পারছেন না।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীভাঙন রোধে উপজেলার নলীন হতে অর্জুনা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধ নির্মাণে ১৬৪ কোটি টাকার একটি প্রস্তাবনা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায়।

এছাড়া ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় আনুমানিক ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে যমুনা নদীতে বাঁধ নির্মাণ কাজের প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। সেটিও বর্তমানে স্টাডি পর্যায়েই রয়েছে বলেও তারা জানান।

নদীভাঙনের ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ বলেন, ভূঞাপুরে যমুনা নদীভাঙন রোধে ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বড় প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় প্রকল্পগুলো ছোট ছোট আকারে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু করা হবে।

প্রকল্পগুলো অনুমোদন করতে সংশ্লিষ্ট দফতরে তদারকি না থাকায় সেগুলো ফাইলেই আটকে থাকছে বলেও জানান তিনি।

এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।