কুমিল্লার খামারে মরুর উট, দেখতে দর্শনার্থীর ভিড়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ২০ মে ২০২৬

এবার কুমিল্লায় কোরবানির পশুর হাটে বিশেষ আকর্ষণ মরুভূমির জাহাজ খ্যাত উট। সদর দক্ষিণ উপজেলার একটি এগ্রো ফার্মে তাকে লালন-পালন করা হচ্ছে। বিশাল আকৃতির এই উটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুলতান’।

প্রথমবারের মতো জেলায় কোরবানির জন্য উট আসার খবরে এক নজর দেখতে প্রতিদিন ওই ফার্মে শত শত দর্শনার্থী ভিড় করছেন।

সরেজমিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দৃষ্টিনন্দন এক বাংলো বাড়ি। ২০১৭ সালে সেই বাড়িতে রাফি এগ্রো নামে গড়ে উঠেছে তিন তলা বিশিষ্ট পশুর খামার। লালনপালন করা হচ্ছে নানা জাতের পশু। ঈদ উল আযহা উপলক্ষে দুই মাস আগে নতুন করে খামারে যুক্ত হয়েছে উট। পশুটি দেখতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলো বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। এতে পশুর খামার এখন রূপ নিয়েছে চিড়িয়াখানায়। দর্শনার্থীদের জন্য উটকে ফার্মের বাইরে রাখা হয়েছে।

উটের শরীরে ময়লা জমায় পানি ছিটিয়ে পরিষ্কার করছেন খামারটির কর্মচারীরারা। উটটি উচ্চতায় ১০ ফুট ছাড়িয়ে। ওজনে সাড়ে ২২ মণের বেশি। পরিষ্কারের পর বাঁধা হয় বাড়ির সড়কের ওপরই। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তরুণরা বিস্ময় চোখে উট দেখতে থাকেন। কেউ ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ উটের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। উটও সেলিব্রেটির মতো চুপচাপ ছবি তোলার সুযোগ করে দিচ্ছে। এতে বেশ মজা পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

কুমিল্লার খামারে মরুর উট, দেখতে দর্শনার্থীর ভিড়

এদিকে খামারে রয়েছে গয়াল, মহিষসহ বিভিন্ন জাতের শতাধিক বিক্রিযোগ্য দেশি-বিদেশি গরু। রয়েছে শতাধিক কবুতরও। একেকটি গরুর দাম ৮০ হাজার থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত।

দর্শনার্থী সাইফুল হাসান শুভ, পারভেজ হোসেন অনিক ও মো. রিফাত বলেন, ভার্চুয়ালি উট দেখেছি। বাস্তবে কখনো দেখার সুযোগ হয়নি। বন্ধুদের কাছে শুনেছি এখানে উট এসেছে। তাই দেখতে এলাম। ছুঁয়েও দেখলাম। খুব ভালো লেগেছে। এটি খুব শান্ত প্রাণী বলে মনে হয়েছে।

পরিচর্যাকারী সুমন ইসলাম বলেন, দুই মাস আগে উটটি আমাদের খামারে এসেছে। প্রথমে দেখে ভয় পেয়েছি কীভাবে পরিচর্যা করবো। আস্তে আস্তে তার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব হয়েছে। সে এখন আমাদের কথা শুনে। আমরা তার নাম দিয়েছি ‘সুলতান’। সে বালু ও রোদ পছন্দ করে। আমরা তাকে ভুট্টা, গম ও দূর্বা ঘাস দিলেও কাঁটাযুক্ত খাবার সুলতানের বেশি প্রিয়। দৈনিক তাকে অন্তত ৪০ লিটার পানি পান করাতে হয়। প্রতিদিন উট দেখতে শত শত লোকজন ফার্মে ভিড় করেন।

কুমিল্লার খামারে মরুর উট, দেখতে দর্শনার্থীর ভিড়

রাফি এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জুয়েল আহাম্মদ বলেন, আমার খামারে গয়াল, মহিষসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি গরু রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে আমি খামারে গরু মোটা-তাজাকরণ শুরু করি। এবার শখের বসে ভারতের রাজস্থান থেকে উটটি সংগ্রহ করেছি। উটের ওজন ৯০০ কেজির ওপরে। ৩২ লাখ টাকা দাম পেলে বিক্রি করে দিবো। ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন। এখনো আশানুরূপ দাম বলেননি কেউ। খামারে বিক্রি না হলে ২/১ দিন পর হাটে ওঠাবো। ৩২ লাখ টাকা হলে ছেড়ে দিবো।

তিনি আরও বলেন, শুধু সৌদিতে না, বাংলাদেশেও উটের খামার করা যেতে পারে। তবে প্রাণিসম্পদ অফিসকে আরও আন্তরিক হতে হবে। গত ৯ বছরে আমার খামারে সরকারি কোনো চিকিৎসক বা কর্মকর্তা আসেননি। চিকিৎসার জন্য তাদের ফোন করেও পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে প্রাইভেট চিকিৎসক রাখতে হয়।

তবে এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, গরুসহ বিভিন্ন পশুর চিকিৎসাসেবা আমরা নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছি। রাফি এগ্রো ফার্ম কার কাছে সেবা চেয়ে পায়নি এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।