যমুনার চরে আটকা পড়া হাতিটি এখন মৃতপ্রায়
পাহাড়ি ঢলের স্রোতে ভারত থেকে ভেসে আসা বিশাল আকৃতির বন্য হাতিটি এখনও যমুনার দুর্গম এলাকা হরিরামপুরের নির্জন চরে অবস্থান করছে। হাতিটি উদ্ধারের জন্য বন বিভাগ কমিটি গঠন করেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে।
সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় বন্য এই প্রাণীটি খাবারের অভাবে এখন মৃতপ্রায়। মঙ্গলবার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে এই অবস্থা জানা গেছে।
চরের বাসিন্দা আমিনুল ও মোকলেছ জানান, গত দুইদিন ধরে নিজেদের উদ্যোগে বড়-বড় কলা গাছ কেটে নৌকা নিয়ে গিয়ে চরে ফেলে আসলেও সেগুলো খায়নি হাতিটি। এতে চরের বাসিন্দাদের ধারণা হাতিটি দুর্বল হয়ে পড়ায় আর হাটা চলা করতে পারছে না। এ কারণে কলা গাছগুলো যে স্থানে ফেলে রেখে আসা হয়েছিল সেখানেই রয়ে গেছে। মঙ্গলবার দুপুরের পরও হাতিটি চরের কাশ বাগানে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চরে আটকা পড়ে থাকা হাতিটি উদ্ধারের জন্য শনিবার ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র রায়কে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির হাতিটি উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা থাকলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েননি।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভারতের আসাম থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল না আসার কারণে তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। তিনি ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সাহেবের আলগা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে হাতিটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে কয়েক দিন হাতিটি ব্রহ্মপুত্র নদের চরবাগুয়ার চরে আটকা ছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরহাগড়া থেকে স্রোতের পানিতে ভাসতে ভাসতে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পাতিলতলা চরে আটকা পড়ে।
পরে সেখান থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাতিটি সারিয়াকান্দি উপজেলা চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের বলেশ্বরচরে জনবসতি এলাকায় প্রবেশ করে। রাতের বেলা বন্য হাতির আগমন টের পেয়ে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে হাতিটি কয়েকটি বাড়িতে প্রবেশ করে ঘর-বাড়ির ক্ষতি করে।
পরে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে হাতিটিকে ধাওয়া করে যমুনা নদীতে নামিয়ে দেয়। শুক্রবার সকালে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া লোকজন হাতিটিকে যমুনার নির্জন চর কাশিমপুর দেখতে পায়। এরপর সেখান থেকে হাতিটি হরিরামপুর চরে কাশ ও ঝাউবনের মধ্যে আশ্রয় নেয়।
লিমন বাসার/এসএস/আরআইপি