স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে গৃহবধূর সংবাদ সম্মেলন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের এক গৃহবধূ স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন গৃহবধূ শারমিন সুলতানা।
লিখিত বক্তব্যে শারমিন বলেন, ২০১২ সালের ১৪ জানুয়ারি কালিকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের খুরশেদ আলম ভূঁইয়ার ছেলে আরাফাত আলম রাজীবের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। বিয়ের সময় শারমিনের পরিবার রাজীবের পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি মোটরসাইকেল ও কাঠের নানা আসবাবপত্র যৌতুক হিসেবে দেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর রাজীব বিয়ের সব যৌতুক বিক্রি করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান।
এরপর থেকেই আরও যৌতুকের দাবিতে শারমিনের উপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন শুরু করে। সৌদি আরব যাওয়ার কয়েক মাস পর দেশে ফিরে এসে যৌতুকের জন্য শারমিনের উপর নির্যাতন শুরু করে স্বামী রাজীবও। নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে শারমিন তার ভাইয়ের কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা এনে দেন রাজীবকে। কিন্তু এতেও শান্ত হয়নি রাজীব সে আবারও টাকা দাবি করে।
কিন্তু শারমিন তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তার উপর নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি টাকা দিতে না পারলে তার ছোট বোনকে রাজীবের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার জন্য বলছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৪ জুলাই রাজীব তার কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা না দিলে দ্বিতীয় বিয়ে করার হুমকি দিয়ে শারমিনকে মারধর শুরু করে। এ ঘটনায় শাশুড়িও তাকে মারধর করে। শারমিনের পরিবারের লোকজন তাকে রক্ষা করতে আসলে তাদের সঙ্গে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়।
এ ঘটনার পর ১৬ জুলাই সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ রাজীব ও তার মা রোকেয়া বেগমকে গ্রেফতার করলেও রোকেয়া আদালত থেকে জামিন পান।
এরই মধ্যে শারমিন জানতে পেরেছেন, রাজীব তাকে না জানিয়ে সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়ায় আরেকটি বিয়ে করেছে। এ অবস্থায় শারমিন তার দায়েরকৃত মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার স্বামী ও শাশুড়ির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক সভাপতি মো. আরজুসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমএস