আল্লা করতেছে না দরদ মানসি করবি কেবা করে


প্রকাশিত: ০২:৫৯ এএম, ২৭ জুলাই ২০১৬

`চহি ঘোম আসে না উইঠে উইঠে পওর দেই যে হুয়ে থাকপো দাবা নিয়ে যাবেনে। আজ কয়ডা মাস ধইরে কত এমপি আইলো, চেয়ারম্যান মেম্বার আইলো কেউই তো আমাগের দরদ করতেছে না। আল্লা করতেছে না দরদ মাসসি করবি কেবা করে।`  এভাবেই নিজের আক্ষেপের কথা জানান নদী ভাঙনের শঙ্কায় থাকা রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের পূর্ব উড়াকান্দা গ্রামের তারা বানু।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের লালগোলা থেকে পূর্ব উড়াকান্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সামসুউদ্দিনের বাড়ির এলাকার মধ্যকার স্কুল, মসজিদ, কবরস্থান, ফসলি জমিসহ শতাধিক বসতবাড়ি হুমকির মুখে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনসহ অনেক কর্মকর্তা পরিদর্শনে আসলেও তেমন আশার বাণী শোনাতে পারেননি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের তীব্রতার কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় অনেকে বসতবাড়ি ভেঙে ও গাছ-গাছালি কেটে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও উড়াকান্দা স্কুলের একটি ভবনসহ গাছ-গাছালি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর পাড় দিয়ে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল।

পূর্ব উড়াকান্দার আব্দুল জলিল জানান, গত কয়েকদিনে ভাঙতে ভাঙতে এখন আমার ঘরের সঙ্গে চলে এসেছে নদী। বাঁশ দিয়ে কিছু অংশের ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও অন্য পাশ দিয়ে ভাঙছে। যে কোনো সময় আমার বাড়ি ভেঙে যেতে পারে। পানি বৃদ্ধির আগে ভাঙন রোধে কাজ করলে এখন এতো ভাঙতো না। সরকারের কাছে আমার দাবি, যেটুকু আছে সেটুকু ভাঙনের হাত থেকে বাঁচান।

RAJBARI

হালিমা বেগম জানান, কয়েকদিন আগে নদীতে আমার বাড়ি ঘর সব ভেসে গেছে। শুধু এখন ভিটেটুকু আছে যার উপর পলিথিন দিয়ে ছাপড়া করে থাকি। এখন এও যদি ভেঙে নিয়ে যায় তাহলে কোথায় যাব। আর তো জায়গা জমি নেই। ছেলে-মেয়েগুলো ভয়ে নদীর গর্জনে রাতে বাড়িতে থাকতে চায় না জাগায় জাগায় থাকে।

পশ্চিম ভবদিয়ার লিটন মন্ডল জানান, গত কয়েকদিন ধরে ভাঙছে। তবে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে ভাঙন আমাদের রান্না ঘরের পেছনে চলে এসেছে। কিছুক্ষণ আগে বিশাল একটি মাটির চাপ নারিকেল গাছ নিয়ে চোখের পলকে বিলীন হয়ে গেল। না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না যে ভাঙনের ভয়াবহতা কি?

বরাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ মো. মনিরুজ্জামান সালাম জানান, যখন নদীতে পানি বাড়েনি তখন স্থানীয় এমপি ও জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে যে ১২০ মিটার কাজ হয়েছে তা অস্বচ্ছ। ইতোমধ্যে স্কুলসহ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছে প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ।

এই মুহূর্তে ১০ হাজারের বেশি জিও ব্যাগ ফেলতে পারলে ভাঙন রোধ করা যেত। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্ধ পাইনি। তবে আমার ইউনিয়নের লালগোলা বাজার থেকে পূর্ব উড়াকান্দার জলিলের বাড়ি পর্যন্ত ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধ না করলে ৬০/৭০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

এছাড়াও জেলা সদরের মিজানপুর, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া, বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ও জঙ্গল ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে বসতবাড়ি, প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি।

রুবেলুর রহমান/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।