প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে পেট্রলবোমাসহ আটক ৪
লক্ষ্মীপুরে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের দোকানে জিহাদি বই ও পেট্রলবোমা রেখে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেল চার যুবক। এ ঘটনায় র্যাব ওই চারজনকে আটকের পর গ্রেফতার দেখিয়ে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।
শনিবার বিকেলে র্যাব-১১ এর লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মেজর এএম আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি কল্লোল কুমার দত্তের নেতৃত্বে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারীর চতালিয়া বাজার থেকে চার যুবককে আটক করা হয়। এসময় উদ্ধার করা হয় পাঁচটি পেট্রলবোমা, পাঁচটি চকলেট বোমা ও ১১টি ইসলামী রাজনৈতিক মতাদর্শের জিহাদি বই।
আটকরা হলেন- সদরের কালীদাসেরবাগ এলাকার বাসিন্দা নুর নবীর ছেলে শরিফুল আজম রিপন (২৩), একই এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে ইসমাইল হোসেন রুবেল (১৯), আবু সিদ্দিকের ছেলে তারেক রহমান (১৯) ও দক্ষিণ মান্দারী গ্রামের মৃত শফি উল্যার ছেলে মো. শহীদ (২৫)।
র্যাব জানায়, শুক্রবার রাতে আটক শরিফুল আজম রিপন ও ইসমাইল হোসেন রুবেল র্যাবকে ফোন করে জানায়, দক্ষিণ মান্দারীর চতালিয়া বাজারে মো. রুবেলের (২২) দোকানের ভিতর বিস্ফোরকদ্রব্য ও জিহাদি বই মজুদ রয়েছে। এ সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ওই বাজারে যায় র্যাব। তখন তথ্যদাতা শরিফুল আজম রিপন ও ইসমাইল হোসেন রুবেলকে র্যাব সঙ্গে করে ওই দোকানে নিয়ে যায়।
এসময় তাদের তথ্যমতে, দোকানটির চৌকির নিচ থেকে পাঁচটি পেট্রলবোমা, পাঁচটি চকলেট বোমা এবং ১১টি ইসলামী রাজনৈতিক মতাদর্শের জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়। শরিফুল আজম রিপন ও ইসমাইল হোসেন রুবেলের অতি উৎসাহের বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে, দোকানিকে ফাঁসাতে তারা এ ষড়যন্ত্র করেছেন।
দোকান মালিক রুবেলের সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জের ধরে চারজন মিলে নাটক সাজিয়ে র্যাবকে মোবাইল ফোনে সংবাদটি জানায়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর দুজনকে মান্দারী এলাকা থেকে আটক করা হয়।
বিস্ফোরকদ্রব্য ও জিহাদি বই নিজেদের হেফাজতে রেখে অপরের ক্ষতিসাধনের লক্ষ্যে তা ব্যবহার করা এবং সরকারি কর্মচারীদের ভুল তথ্য প্রদান করার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে।
কাজল কায়েস/এআরএ/আরআইপি