পদায়ন জটিলতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে দায়িত্ব পালন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। যদিও জেলা পুলিশ বলছে বিষয়টি নিয়ে দাফতরিক কাজে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না তাদের।
পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পাওয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এ মাসুদের জন্যই মূলত এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একে অন্যের পদ ছেড়ে না যাওয়ায় পদায়ন (পোস্টিং) হয়েও বসে থাকতে হচ্ছে তিন কর্মকর্তার। তবে শিগগিরই এসব বিষয়ের অবসান না হলে জেলা পুলিশের ‘প্রশাসনিক জটিলতা’ কাটবে না।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহরিয়ার আল মামুন। ১১ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতর থেকে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর একদিন আগে ৩ এপ্রিল পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এ মাসুদ। এরপর ২৭ জুন সরকারি একটি প্রজ্ঞাপনে তাকে চট্টগ্রামের রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে (আরআরএফ) পদায়ন করা হয়। কিন্তু তিনি এখনো জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ ছেড়ে যাননি।
অন্যদিকে র্যাংক-ব্যাজ পড়ে গত ৬ জুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেও দায়িত্ব বুঝে নিতে পারছেন না শাহরিয়ার আল মামুন। তিনি এখনো সদর সার্কেল অফিসে বসেই দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে গত ১৪ মে সদর সার্কেলে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন হওয়া আবদুল করিমও দায়িত্ব নিতে পারছেন না। তাই তিনি এখন সদর মডেল থানায় সহকারী পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা পুলিশের এ তিন শীর্ষ কর্মকর্তার একে অপরের পদ ছাড়া না ছাড়া নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে এ জটিলতার কারণে দাফতরিক কাজে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার।
এ ব্যাপারে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার এম এ মাসুদ জাগো নিউজকে বলেন, আসলে আমাকে যে জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে সেই জায়গায় যিনি আছেন তাকে এখনো অন্য কোথায় পদায়ন করা হয়নি। তার পদায়ন হলেই আমি সেখানে চলে যাবো।
তিনি আরো বলেন, আসলে ঘটনাটি একই সময়ে দুই ট্রেন স্টেশনে এসে পড়ার মতো, লাইন ক্লিয়ার হলেই একটি ট্রেন চলে যাবে। এতে করে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
জানতে চাইলে জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে কিছুটা জটিলতা থাকলেও সেটির জন্য দাফতরিক কাজে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমরা পুলিশ সদর দফতরে কথা বলেছি। আশা করছি শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা হবে।
আজিজুল সঞ্চয়/এসএস/এমএস