পাইলিংয়ের শুরুতে অসংখ্য বাড়িতে ফাটল : এলাকায় আতঙ্ক
ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের গ্রিনসিটি আবাসনের ২৮টি ২০ তলা ভবন নির্মাণের পাইলিংয়ের কাজের শুরুতেই এলাকার অংসখ্য বাড়ি-ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, জেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়াড় সাহাপুরের নতুনহাট এলাকায় প্রকল্পের নিজস্ব জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে ২৮টি ২০ তলা ভবন। ভবন নির্মাণে পাইলিংয়ের কাজ করার ফলে ওই এলাকার কয়েকটি বাড়িঘরের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারায় এবং মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
পাবনা জেলা প্রশাসনের মাসিক সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ও নির্বাহী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ওই এলাকা পরিদর্শনও করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, ওই এলাকায় খুব বেশি বাড়িঘর নেই। তার পরও ঠিকাদারদের বলা আছে, তাদের কার্যক্রমে যেন স্থানীয়দের সমস্যা না হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস ধরে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। তিনটি ভবনের মধ্যে দুটি ভবনের পাইলিংয়ের কাজ করছে সাজিন এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, অন্যটির কাজ করছে মজিদ সন্স কনস্ট্র্রাকশন লিমিটেড।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, তার বাড়ির দেয়াল, ছাদের পলেস্তারা ও মেঝের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন এ ফাটলের পরিমাণ বাড়ছে।
জানা যায়, আবদুস সালামসহ এলাকার বাসিন্দারা গণপূর্ত অধিদফতর রাজশাহী, ঢাকা, পাবনা জেলা প্রশাসক, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে প্রতিকার চেয়ে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প প্রকৌশলী আলম হোসেন জনি জানান, প্রতিটি পিলারের দৈর্ঘ্য ৬০ ফুট ও ওজন সাত টন। এ ধরনের প্রায় এক হাজার পিলার পাইলিং করে মাটির ৬০ ফুট নিচ পর্যন্ত পুঁতে ফেলা হবে। এরপর মূল ভবনের কাজ শুরু হবে। প্রতিটি ২০ তলা ভবনের জন্য ৩১১টি করে পিলার পুঁততে হবে। এ জন্য ৩৭০ টন ওজনের হাইড্রোলিক ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ২০ জুলাই থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত সাতটি পিলার পোঁতা হয়েছে। অন্য সাইটে হ্যামার পাইলিং করার কারণে ঝাঁকুনির সৃষ্টি হচ্ছে।
রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী কি ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
আলাউদ্দিন আহমেদ/এএম/আরআইপি