খোঁজ মেলেনি টঙ্গীর সেই কারখানার শ্রমিক জহিরুলের


প্রকাশিত: ০১:৪০ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬

গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরীতে ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ছয়দিন পরও শ্রমিক টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের জহিরুল ইসলামের খোঁজ মেলেনি।

জহিরুলের বাড়ি মির্জাপুরের জামুর্কী ইউনিয়নের উফুকী গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আবুল হোসেন। তিনি ওই কারখানায় প্রিন্টিং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিখোঁজ জহিরুলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারের পরই তার মা জেলেকা বেগম, স্ত্রী জাবেদা বেগম ও তিন বছরের একমাত্র সন্তান নাহিদকে নিয়ে জহিরুলের চাচা হাবিবুর রহমান তার খোঁজে টঙ্গী চলে যান। এ হাসপাতাল ও হাসপাতাল খোঁজাখুঁজির পরও তার হদিস না পাওয়ায় ঈদের দিন সকালে চাচা হাবিবুর রহমান বাড়ি ফিরে আসেন।

তিনি আরো জানান, চার বছর আগে জহিরুলের বাবা আবুল হোসেনের মৃত্যু হলে তার ছোট বোনের জামাই টঙ্গীর সিনমুন বাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জহিরুলকে ওই কারখানায় প্রথমে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরি দেন। পরে নিজ দক্ষতা বলে সে প্রিন্টিং অপারেটর হিসেবে পদোন্নতি পান। বর্তমানে সব মিলিয়ে তার বেতন হয়েছিল প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এই বেতনের টাকায় তার পরিবারের ব্যয়ভার ভালো ভাবে মিটতো বলে জানান তিনি।

চাচা হাবিবুর রহমান জানান, শনিবার ফজরের নামাজ শেষে জহিরুল তার মা জেলেকা বেগমকে ফোন করে বলেছিল ২টা পর্যন্ত ডিউটি করে ওইদিনই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসবে। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরই ওই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই থেকে জহিরুল নিখোঁজ।

জহিরুলের ছোট বোনজামাই ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের ১০ মিনিট আগে জহিরুল কারখানায় ঢোকে। এখনো জহিরুলের খোঁজে তার মা জেলেকা বেগম, স্ত্রী জাবেদা বেগম টঙ্গীতে অবস্থান করছেন। কিন্তু তার কোনো খোঁজ মেলেনি।

জহিরুলের আত্মীয় পার্শ্ববর্তী বরাটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আজমত আলী জানান, বসতভিটা ছাড়া জহিরুলদের আর কোনো সম্পদ নেই। ওই কারখানার চাকরিই ছিল তার পরিবারের আয়-রোজগারের একমাত্র অবলম্বন। এখন ওই পরিবারটি চলবে কীভাবে সেটা এলাকাবাসীর একমাত্র চিন্তা।

আরিফ উর রহমান টগর/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।