সিরাজগঞ্জে এক বছরে ২৪ জেএমবি আটক


প্রকাশিত: ০১:৫২ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬

জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে গত এক বছরে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সক্রিয় সদস্য বাবা, ছেলে, মা, মেয়েসহ ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের অধিকাংশ ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়। এর মধ্যে চারজন সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্যও রয়েছে।

আটকের পর তাদের কাছ থেকে জিহাদি বই, ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, প্রাইমারি ডেটোনেটর, বোতাম সার্কিট, পাওয়ার জেল, প্যাকেট গানপাউডার ও ভাঙা কাচ উদ্ধার করা হয়।

গত কয়েক মাসে একের পর এক জেএমবির সদস্যদের আটকের ফলে সিরাজগঞ্জে র‌্যাব ও পুলিশের ভাবমূর্তি অনেক বেড়ে গেছে। পাশাপাশি জেলার মানুষের মাঝে র‌্যাব ও পুলিশের প্রতি আস্থা বেড়েছে। জেএমবির সদস্যদের আটকের বিষয়টি সফলতার ফসল হিসেবে দেখছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

SIRAJGONJ

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক ২৪ জেএমবির মধ্যে ৮ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এদের চারজন সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য। জিহাদের উদ্দেশ্যে হিজরতে যাওয়ার জন্য তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন বলে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশি ইউনিয়নের রাঘববাড়িয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের দুই ছেলে জেএমবির সদস্য ওমর ফারুক ও ইদ্রিস আলীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আরো অনেকের নাম।

তাদের তথ্যের ভিত্তিতে একে একে আটক করা হয় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভেওমাড়া গ্রামের সুলতান মাহমুদ, সাহানগাছা গ্রামের সোয়াইন হোসেন ওরফে বাবু, চর সোনগাছা গ্রামের মারুফ ফয়সাল ও মোতালেব হোসেন, কাজীপুর উপজেলার বড়ইতলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের হযরত আলী, উপজেলার পঞ্চক্রোশি ইউনিয়নের রাঘববাড়িয়া গ্রামের আমজাদ হোসেন।

গত ২৩ জুলাই রাতে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মাছুমপুর মহল্লা থেকে আটক করা সলঙ্গা থানার বাদুলাপুর গ্রামের নাদিরা তাবাসসুম রানী (৩০), বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ক্ষুদ্র ফুলকোটের হাবিবা আক্তার মিশু (১৮), গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার বোচাগঞ্জ গ্রামের রুমানা বেগম (১৯) ও বগুড়ার শাহজানপুর উপজেলার পরানবাড়ীয়া গ্রামের রুমানা আক্তার রুমা (২১)।

গত ১ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের চাকশা দক্ষিণপাড়া এলাকার ইসরাফিল (২৪), চরমোহনপুর পশ্চিম পাড়ার রুহুল আমীন (৩২) ও চর মোহনপুর উত্তরপাড়ার আলমাসকে (৩০)।

SIRAJGONJ

গত ৫ সেপ্টেম্বর কাজিপুর উপজেলার বড়ইতলা গ্রাম থেকে জেএমবির আত্মঘাতী দলের ৪ নারী সদস্যকে আটক করা হয়। তারা হলেন- উপজেলার পশ্চিম বড়ইতলা গ্রামের আবু সাঈদের স্ত্রী ফুলেরা বেগম (৪৫), তার দুই মেয়ে শাকিলা খাতুন (১৮) ও সালমা খাতুন (১৬), একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৩৫)।

তাদের আটকের পর থেকে এই গ্রামের আরো পাঁচ নারী জেএমবির সদস্য নিখোঁজ বলে জানায় পুলিশ। তারা হলেন- বড়ইতলা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী জরিনা খাতুন, মেয়ে আসিয়া খাতুন, মরিয়ম খাতুন এবং আব্দুল মালেকের স্ত্রী সাজেদা খাতুন ও মেয়ে রাবেয়া খাতুন।

ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, আটক এড়াতে জেএমবির এই আত্মঘাতী নারী সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছে। আত্মগোপনকারীরা জেএমবির সক্রিয় সদস্য।

গত ১২ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন উপজেলার জেএমবির সদস্য মারুফ ফয়সাল ওরফে মারুফ আব্দুল্লাহ। বর্তমানে তিনি জেলা কারাগারে আটক। এছাড়া দুই জেএমবি সদস্য পলাতক। আদালত থেকে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তারা হলেন- কাজিপুর উপজেলার বড়ইতলার গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (২৭) ও একই উপজেলার গান্ধাইল গ্রামের সোলেমান তুফানির ছেলে গোলাম মোস্তফা (৪৫)।  

SIRAJGONJ

সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর সলঙ্গা থানার এরান্দহ গ্রামে জেলা জেএমবি সদস্য শায়েখ জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে ডিবি পুলিশ ও সলঙ্গা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বাবা, দুই ছেলেসহ জেএমবির ৪ সদস্যকে আটক করা হয়।  

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০টি জিহাদি বই, ১০টি ককটেল, ৫ শতাধিক বোমা তৈরির স্প্লিন্টার, এক প্যাকেট গানপাউডার, চার কেজি ভাঙা কাচ উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন- সলঙ্গা এরান্দহ বাজার এলাকার মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে সিরাজগঞ্জ জেলা জেএমবির শায়েখ জয়নাল আবেদীন (৫৫), তার দুই ছেলে বোরহান উদ্দিন (২৮), ইমরান আলী (২৬) ও কাজিপুর থানার গান্ধাইল দক্ষিণপাড়ার মৃত ইছাহাক উদ্দিনের ছেলে জেএমবির জেলার শাখার কোষাধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক (৪৯)।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওহেদুজ্জামান জানান, গোয়েন্দা পুলিশের সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং অভিযানের কারণে তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ জন্য পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আশপাশের জেলাগুলোতে নাশকতার বেশ কিছু ঘটনা ঘটলেও এখানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি কঠোরভাবে রাখা হচ্ছে। নিখোঁজ জেএমবি নারীদের খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।