পোস্টম্যানের কিস্তির টাকা আত্মসাৎ : গ্রাহকদের বীমা বাতিল


প্রকাশিত: ১১:৫৬ এএম, ০৩ অক্টোবর ২০১৬

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা সদর পোস্ট অফিসের সাবেক পোস্টম্যান আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ডাক জীবন বীমা গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের খবর পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন অফিসে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ফল না পাওয়ায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন গ্রাহকরা। তাদের ডাক জীবন বীমা পূনরুজ্জীবিত করণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রাহকরা।

বাসাইল সদর পোস্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, এ রকম প্রতারিত ও বাতিল হয়ে যাওয়া গ্রাহকের সংখ্যা কমপক্ষে ৬৭ জন।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছ থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন বিগত ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাসাইল উপজেলা সদর পোস্ট অফিসে পোস্টম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। তখন কাউন্টার অপারেটর পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বীমা গ্রাহক তার নিকট নানা অংকের কিস্তি জমা দেন।

আলমগীর হোসেন গ্রাহকদের টাকার বিপরীতে রশিদ প্রদান করলেও রশিদ বইয়ের মুড়িতে টাকার পরিমাণ কম লিখে গ্রাহকদের নামে লেজার বইয়ে জমা করে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
 
এর মধ্যে অনেক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, আলমগীর হোসেন তাদের পূর্ণ কিস্তিই আত্মসাত করেছে। ফলে বীমা গ্রাহকরা নিয়মিত কিস্তি জমা দিয়ে আসলেও তা নিজেদের অনুকূলে জমা না হওয়ায় তাদের বীমা বাতিল হয়ে গেছে।
 
বীমা গ্রাহকদের অভিযোগ, এ ব্যাপারে তারা প্রধান কার্যালয় বরাবর একাধিক অভিযোগপত্র পাঠিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় পুনরায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগকারীদের একজন বীমা গ্রাহক জলি ভূইয়া কেন্দ্রীয় সার্কেল ঢাকার পোস্ট মাস্টার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহবুব রশিদ বরাবর গত ১৮ জুলাই ২০১৬ই লিখিত ৬৫৭ নম্বর অভিযোগ পত্রে জানান, আমি পোস্টম্যান আলমগীর হোসেনের কাছে ২০১২ এবং ২০১৩ সালে দুই বারে মোট ৪ হাজার ৯শ ৯২ টাকার কিস্তি জমা দিলেও পরে লেজার চেক করে জানতে পারি আলমগীর হোসেন আমার নামে ৩ হাজার ৭শ ৪৪ টাকা জমা করে অবশিষ্ট ১ হাজার ২শ ৪৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ফলে আমার নামীয় বীমাটি বাতিল হয়ে আছে।

বীমা গ্রাহকদের অভিযোগ, আলমগীর হোসেন তাদের ডাকজীবন বীমা থেকে লাখ টাকার অধিক হাতিয়ে নিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, একবার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও হয়তো জেলা কার্যালয়ের কোনো কর্তাব্যক্তি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শাস্তি হতে অব্যাহতি দিয়ে তার পদোন্নতির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। গ্রাহকরা তাদের বীমা সচল করার পাশাপাশি আলমগীর হোসেনের শাস্তি দাবি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বাসাইল সদর পোস্ট অফিসের সাবেক পোস্টম্যান বর্তমানে মির্জাপুর উপজেলা সদর পোস্ট অফিসের পোস্টাল অপারেটর অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন অর্থ অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, এজন্য আমি দীর্ঘদিন সাময়িক বরখাস্ত ছিলাম। গ্রাহকদের ৩০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা সদর পোস্ট অফিসের মাস্টার মিনহাজ উদ্দিন, পোস্টম্যান আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গ্রাহকদের বীমা সচল করার প্রক্রিয়া চলছে। তাকে একবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে পুনরায় বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।