প্রার্থীদের প্রচারণায় সরগরম কাশিল


প্রকাশিত: ০৬:১৯ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০১৬

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ৫নং কাশিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। এ ইউনিয়নে গত পঞ্চম ধাপে ২৮ মে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সীমানা জটিলতা দেখিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করায় প্রতীক বরাদ্দের আগ মুহূর্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে নির্বাচন কমিশন এ ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করেন।

নতুন তফশিল অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর এ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কাক-ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। বিজয় নিশ্চিত করতে নাওয়া খাওয়া ভুলে ভোটারদের কাছে টানতে চালিয়ে যাচ্ছেন বিরতিহীন প্রচার-প্রচারণা।

প্রার্থী ও কর্মীরা ভোট প্রার্থনায় নানা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অবলম্বন করছেন বিভিন্ন কৌশল। ব্যানার, পোস্টার ও লিফলেটে ছেয়ে গেছে গোটা ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, হোটেল, রেস্তোরা, দোকানপাট ও রাস্তার মোড়সহ ইউনিয়নের প্রতিটি স্পট।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, এ ইউনিয়নে ১০ হাজার ১শ ৮৮ জন পুরুষ ও ১১ হাজার ৪ জন নারীসহ মোট ২১ হাজার ১শ ৯২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।ইউনিয়নটিতে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন, সংরক্ষিত (নারী) সদস্য ১০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৬ জন প্রার্থীসহ মোট ৬৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত বাসাইল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা রাজিক (নৌকা), বিএনপি মনোনীত বাসাইল এমদাদ হামিদা ডিগ্রী কলেজের সাবেক জিএস, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ও কাশিল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রমজান মিয়া (ধানেরশীষ)। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম মাহমুদ (ঘোড়া), জাকির হোসেন (মোটরসাইকেল), সাইফুল ইসলাম চৌধুরী (আনারস), আলাল উদ্দিন (টেলিফোন), উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার লুৎফর রহমান
(চশমা), দেওয়ান শহীদুল ইসলাম তৌহিদুল (রজনীগন্ধা) ও মো. বারিকুল ইসলাম (টেবিল ফ্যান)।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। করছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা। সেইসঙ্গে প্রচারণার কাজে সমানতালে চলছে মাইকিং। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা উৎসবের আমেজে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হলেও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরবতা পালন করছে অধিকাংশ ভোটারই।

মূলত যথাসময়ে নির্বাচন না হওয়ার কারণেই যেন সাধারণ ভোটাররা হারিয়ে ফেলেছেন ভোটের প্রয়োগের উৎসাহ। এছাড়া হাট-বাজার চায়ের দোকান, স্কুল-কলেজ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। প্রার্থীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, তাদের অতীত আর আমলনামাসহ কোথায় কোন প্রার্থীর অবস্থান কেমন এ নিয়ে অভিজ্ঞ ও সচেতন মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
 
নির্বাচনী মাঠ পর্যবেক্ষণকালে সাধারণ ভোটারদের সাক্ষাৎকারে জানা যায়, সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাসহ মাদক, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীদের সকলেই।

তাছাড়া সকল প্রকার সরকারী বরাদ্দের সুষম বন্টনসহ অসহায় গরিব-দুঃখী মানুষের সেবায় নিজেকে আজীবন সম্পৃক্ত রাখার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে তাদের। সর্বপরি ইউনিয়নকে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়নে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন তারা।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হলেও দলীয় প্রভাবের চেয়ে এলাকা ভিত্তিক নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি রয়েছে। ভোটারদের এ ধারনা থেকে প্রতিয়মান হয় যে এলাকায় প্রার্থীর সংখ্যা কম সে এলাকার প্রার্থীই অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। তবে এ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বড় দুই দলের প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

তবে এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী শামীম মাহমুদ (ঘোড়া) ও জাকির হোসেন (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠ সরগরম করে তোলায় ভোটের লড়াইয়ে বড় দুই দলের প্রার্থীরই অনেকটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে এদের অনেকেই ধারণা করছেন।

আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় দলের মনোনীত প্রার্থী মির্জা রাজিক অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। অপরদিকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার লুৎফর রহমান ও উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম মাহমুদ জোর গণসংযোগ চালিয়ে যাওয়ায় বিএনপির ভোটার দূর্গে অনেকটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম মাহমুদ (ঘোড়া) ও জাকির হোসেন (মটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে শীর্ষ চারের আলোচনায় উঠে আসছেন। এছাড়া অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও পুরোদমে চালিয়ে চাচ্ছেন তাদের প্রচারণা।

এদিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাবৃন্দ।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।