সেই প্রাণীটিকে বাঁচানো গেল না
বিপন্ন প্রজাতির ঘড়িয়ালটি শেষ পর্যন্ত মারা গেছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে ফরিদপুর সদরের আলীয়াবাদ ইউনিয়নের ভাজনডাঙ্গা ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ঘড়িয়ালটি মরে ভেসে ওঠে। দীর্ঘ সময় ধরে টানাহেঁচড়ার কারণে ঘড়িয়ালটি মারা গেছে বলে ধারণা করছেন পশু চিকিৎসক।
গত শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে জেলেদের মাছের জালে ধরা পড়ে ওই ঘড়িয়াল। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘড়িয়ালটি বন বিভাগের মাধ্যমে সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ধলার মোড় এলাকায় পদ্মা নদীতে অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু বিকেল চারটার দিকে একই এলাকায় আবার জালে আটকা পড়ে ঘড়িয়ালটি। এরপর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বন বিভাগ ঘড়িয়ালটিকে ভাজনডাঙ্গা ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে পুনরায় ছেড়ে দেয়।
ভাজনডাঙ্গা ঘাট পরিচালনাকারী মো. মিজানুর রহমান বলেন, শনিবার রাত নয়টার দিকে ঘড়িয়ালটি ভাজনডাঙ্গা ঘাট এলাকায় মরে ভেসে ওঠে। রাতেই এলাকাবাসীর সহায়তায় সেটি নদী থেকে পাড়ে তোলা হয়।
জেলা বন বিভাগ কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ঘড়িয়ালটি বিরল প্রজাতির মিঠা পানির কুমির বর্গের সরীসৃপ। এটি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বে মিঠা পানির এ-জাতীয় ঘড়িয়াল রয়েছে ২০০টির মতো।
ফরিদপুর বন বিভাগের ফরেস্টার নির্মল কুমার দত্ত বলেন, ঘড়িয়ালটি আনুমানিক পাঁচ ফুট লম্বা এবং দেড় ফুট প্রশস্ত। ওজন আনুমানিক ১৫ কেজি। পদ্মা নদীতে ছাড়ার আগে ঘড়িয়ালটির চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘড়িয়ালটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। আর এরা যেহেতু উভচর প্রাণী, তাই এরা দীর্ঘ সময় পানির বাইরে থাকলেও সমস্যা নেই। তাই এটির কোনো চিকিৎসা প্রয়োজন বলে মনে হয়নি।
ফরিদপুর পশু হাসপাতাল ভেটেরিনারি সার্জন প্রভাত চন্দ্র সেন বলেন, ময়নাতদন্তে ঘড়িয়ালের পেটে কোনো সমস্যা বা শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ সময়ের টানাহেঁচড়ার কারণে ঘড়িয়ালটি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
আরএআর/এবিএস