সাতক্ষীরার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে সীমাহীন দুর্নীতি


প্রকাশিত: ০৫:৫৮ এএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৬

নেই সাইন বোর্ড, চেয়ার-টেবিল, এলোমেলো কয়েকটি বেঞ্চ, নেই শিক্ষার্থীও, বিদ্যালয়ের নামে দাখিলকৃত জমির কাগজপত্রও জালজালিয়াতি অথচ সাতক্ষীরা সদরের বালিথা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন সরকারি তালিকাভুক্তির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

যাচাই বাছাইয়ের কাজ জেলা পর্যায়ে প্রায় শেষ। অনিয়ম-দুর্নীতির মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে জাতীয়করণের অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৩ সালের ২৩ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের এক পত্রে বেসরকারি রেজিস্ট্রেশনভুক্ত পাঠদান উপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যাচাই বাছাই পূর্বক জাতীয়করণ করা হবে। এই ঘোষণার পর সাতক্ষীরা সদরের ৬টি, তালা উপজেলার ৫টি ও আশাশুনি উপজেলার ৪টি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান কর্তারা আবেদন করে বসেন মন্ত্রণালয়ে।

মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়গুলো যাচাই বাছাই পূর্বক তদন্ত প্রতিবেদন চান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। নামে মাত্র গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিপত্রের আলোকে কোনো কাগজপত্র সঠিক না থাকলেও যাচাই বাছাই প্রতিবেদনে সব কিছু পরিপত্রের আলোকেই দেওয়া হয়েছে।

Satkhira

বিদ্যালয়টির নামে কোনো জমিও নেই, শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতাও ভালো না বলে জাগো নিউজকে জানান বালিথা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি বলেন, স্কুলটি আমার বাড়ির পাশে। ছয় মাস আগে তৈরি হওয়া স্কুলটি ব্যক্তিগত জায়গায়। তাছাড়া স্কুলে ৫-১০ জনের বেশি ছেলে মেয়ে নেই। তিন-চার জন শিক্ষক থাকলেও তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাও খুব কম।

কোনো অফিসার তদন্তে আসলে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ডেকে আনা হয় এমন কথা জানিয়ে বালিথা সরকারি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মোজাহিদুল ইসলাম সাকিব বলেন, সাতক্ষীরা থেকে কোনো অফিসার আসলে শুধু আমিই না আরো অনেক ছেলে মেয়ে এখানে আসে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি ৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত। ছেলে মেয়ে রয়েছে ১শ ৬৫ জন। জমির কাগজ বিদ্যালয়ের নামে আছে। তবে রেজিষ্ট্রেশন আছে কিনা বলতে পারবো না।

সহকারী শিক্ষিকা ইন্দ্রানী বালা জানান, ছাত্র-ছাত্রী ঠিকমত আসে না। ৪-৫ জন করে আসে। ক্লাস ওয়ানে আছে ১০ জন আর নার্সারিতে আছে ২৮-৩০ জন।

Satkhira

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ইচ্ছামত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলে স্বীকার করে সাতক্ষীরা সদর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুস্তাক আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ডিপিও সাহেব যেভাবে বলেছেন আমরা সে অনুযায়ী সিগনেসার করেছি। তাছাড়া সব স্কুলে গিয়ে দেখাও সম্ভব হয় না।

জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য আবু রায়হান জানান, সাতক্ষীরা জেলার ১৫টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্র একই। সম্পূর্ণ অনিয়ম দুর্নীতি আর বাণিজ্যের মাধ্যমে এসব বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের চেষ্টা করা হচ্ছে। সুষ্ঠ তদন্ত হলে নেপথ্যের ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
 
তবে কোনো প্রকার অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, মন্ত্রণালয় থেকে বার বার ফোন দেয় আপনি এটা দিচ্ছেন না কেনো। উনার নাম আকতার। তবে আমি যেটা দেখেছি রিপোর্টে সেটাই দিবো।

যদি ছাত্র বিবেচনা এবং অনেক কিছু বিবেচনা করা হয় তাহলে অধিকাংশই জাতীয়করণের সুপারিশযোগ্য নয়। টাকা পয়সার লেনদেন প্রসঙ্গে আমার সম্পর্কে কেউ বলতে পারবে না।

আকরামুল ইসলাম/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।