সিলেটে পটকা মাছ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা
বিষাক্ত পটকা মাছ খেয়ে ছয়জন মারা যাওয়া ও অনেকের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় সিলেটের জৈন্তাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পটকা মাছ নিয়ে বিশেষ সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এই সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়।
সিলেটের সিভিল সার্জন মো. হাবিবুর রহমান জানান, পটকা মাছ খেয়ে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে বুধবার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জৈন্তাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়। এছাড়া ওই বিষাক্ত মাছ না খাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা পাটকা মাছকে প্রাণঘাতি হিসেবে আখ্যায়িত করলেও সিলেটের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে প্রকাশ্যেই বিক্রি হয় পটকা মাছ। পকটা বিক্রিতে নেই কোনো নিষেধাজ্ঞাও। সিলেটের হাওরবেষ্টিত অঞ্চলগুলোতেই সবচেয়ে বেশি পটকা বিক্রি হয়। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাওয়া যাওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠির অনেকেই কিনে নেন পটকা মাছ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পটকা মাছ কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়। পটকার মধ্যে ‘টেকটাডোক্সিন’ নামক এক ধরণের বিষ থাকে। একটি পূর্ণাঙ্গ পটকা মাছের বিষে ৩০ জন মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। পটকার বিষ সায়ানাইডের চেয়ে ১ হাজার ২০০ গুণ বেশি বিষাক্ত।
ওসমানী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. এনায়েত হোসেন বলেন, পটকা মাছে টেকটাডোক্সিন নামে এক ধরনের বিষ থাকে যা কোনো ওষুধে উপশম হয় না। এ ধরনের বিষক্রিয়ায় আক্রান্তদের ব্রেনের নার্ভাস সিস্টেম দুর্বল করে দেয়। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মানুষের দ্রুত মৃত্যু হয়।
ছামির মাহমুদ/এফএ/জেআই