রাজশাহীতে যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার, শিবিরকর্মীসহ গুলিবিদ্ধ ২
রাজশাহী নগরের মেহেরচন্ডি জামালপুর এলাকায় এক ছিনতাইকারীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে মৃতদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী।
নিহত অপু (২৪) হেতেম খাঁ বনপুকুর এলাকার মৃত কুদরত আলীর ছেলে। অপু বর্ণালী মোড়ের পেছনে এশিয়া টেইলার্সে কাজ করতো। তার বুকে একটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।
এছাড়াও পৃথক ঘটনায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক শিবিরকর্মীসহ দুইজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত অপুর ভাই রতন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে নিজ এলাকাতেই এক বন্ধুর বাড়িতে ছিল অপু। এসময় তাকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে বুধবার সকালে তার মা টেলিভিশনে লাশ দেখে অপু নিহত হয়েছে বলে জানতে পারেন। পরে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন তিনি।
তবে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুুখপাত্র গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানিয়েছেন, এ ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ এখনও কিছুই জানেনা। তবে স্থানীয়দের দেওয়া খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তারা আট ভাইয়ের মধ্যে ৪-৫ জনই ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্থানীয় এলাকাবাসী পুলিশকে জানিয়েছে।
এদিকে, রাজশাহী নগরে পুলিশের গুলিতে এক শিবিরকর্মীসহ আরও দু’জন আহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি গুলিবিদ্ধ দুজনের একজন শিবিরকর্মী, অন্যজন ছিনতাইকারী। মতিহারের পূর্ব মির্জাপুর ও হেতেম খাঁ এলাকায় মঙ্গলবার গভীররাতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, রাজশাহী নগরের শ্যামপুর এলাকার শিবিরকর্মী সবুজ আলী (২৫) ও ষষ্ঠীতলা এলাকার যুবক আসিফ ইসলাম শোভন (২৪)।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, নগরের বিনোদপুর এলাকা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিবিরকর্মী সবুজ আলীকে আটক করে পুলিশ। সবুজের বিরুদ্ধে অবরোধ-হরতালে নাশকতা সৃষ্টির ১৫টি মামলা রয়েছে।
তিনি বলেন, গভীররাতে মতিহার থানা পুলিশ তাকে নিয়ে অস্ত্র ও বোমা উদ্ধারের জন্য পূর্ব মির্জাপুর এলাকায় পৌঁছলে অন্য শিবিরকর্মীরা ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে শর্টগানের গুলি চালায়। এসময় পুলিশের ভ্যান থেকে পালাতে গিয়ে সবুজ আলী গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলছে।
ইফতে খায়ের আলম আরও বলেন, মঙ্গলবার নগরের ষষ্ঠীতলা এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী আসিফ ইসলাম শোভনকে আটক করা হয়। পরে রাতে তাকে বোয়ালিয়া মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। গভীর রাতে পুলিশ তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য হেতেম খাঁ এলাকায় যায়।
তিনি বলেন, তখন শোভনের সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ গুলি চালালে শোভন পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। তার পায়ে চারটি গুলি লাগে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তারা দুজনই শঙ্কামুক্ত বলে জানান তিনি।
এমএএস/আরআই