নাসিরনগরে হামলার সন্দেহভাজন মূলহোতা আটক


প্রকাশিত: ০৯:৪১ এএম, ০৫ জানুয়ারি ২০১৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার সন্দেহভাজন মূলহোতা হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আখিঁকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার ভাটারা থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এরপর দুপুর ৩টার দিকে ভাটারা থানা পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে আঁখিকে হস্তান্তর করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজ উদ্দিন ভূইয়া আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে মুঠোফোনে জাগো নিউজকে জানান, গত দুইদিন ধরে আঁখিকে ধরার জন্য আমাদের অভিযান চলছিল। ভাটারা এলাকায় আঁখির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোরে ভাটারা থানা পুলিশের সহযোগীতায় আঁখিকে আটক করা হয়।

তিনি আরো জানান, আমরা এখনো ঢাকাতেই আছি। আঁখিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাতেই আঁখিকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরবো।

এর আগে গত রোববার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আঁখির অবস্থান সম্পর্কে জানতে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মনোরঞ্জন দেবনাথ ও আঁখির ব্যক্তিগত সহকারী উত্তম কুমার দাসকে দাসকে আটক করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরীফ নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট দেয়ার অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মামলায় গ্রেফতার নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ (৩০) দাসের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে নাসিরনগর উপজেলা। পরদিন (৩০ অক্টোবর) মাইকিং করে সমাবেশ ডাকে দুইটি ইসলামী সংগঠন।

সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই দুষ্কৃতকারীরা নাসিরনগর উপজেলা সদরে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০টি মন্দির ও শতাধিক ঘর-বাড়ি ভাঙচুর এবং লুটপাট করে।

এরপর ৪ নভেম্বর ভোরে ও ১৩ নভেম্বর ভোরে দুষ্কৃতকারীরা আবারও উপজেলা সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ৬টি ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় পৃথক ৮টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাসহ ১০৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আজিজুল সঞ্চয়/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।