দুদক কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় জিডি


প্রকাশিত: ১১:৩২ এএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দুদকের সিলেট কার্যালয়ের পরিচালক শারমিন পারভীন কোতোয়ালি থানায় এ জিডি করেন।

শুক্রবার দুপুরে থানায় জিডি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল আহাম্মদ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে হামলার শিকার হন দুদক কর্মকর্তারা। এতে দুদক সিলেট অঞ্চলের উপ-সহকারি পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ, রণজিৎ কুমার, কনস্টেবল মিসবাহ উদ্দিন ও গাড়ি চালক বিপ্লব আহত হন।

এসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখার কর্মচারী আজিজুর রহমানকে আটক করলেও অন্যদের বাধার মুখে তাকে নিয়ে যেতে পারেনি দুদক। ওই কর্মচারীকে ঘুষসহ হাতেনাতে আটক করা হয় বলে দাবি দুদকের।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুদকের সিলেট কার্যালয়ের পরিচালক শারমিন পারভীনের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় ঘুষের টাকা লেনদেনের সময় ওই কার্যালয়ের অফিস সহকারী আজিজুর রহমানকে আটক করে দুদক। তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অন্য কর্মচারীরা জড়ো হয়ে বাধা দেন। এসময় দুই পক্ষের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

পরে জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন নিজ কক্ষে দুদক কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলাকালীন সময়েই জেলা প্রশাসকের কক্ষের বাইরে দুদক কর্মকর্তাদের ওপর হামলা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরের বাগবাড়ির বাসিন্দা অকিল চন্দ্র সূত্র ধর পায়েল এন্টারপ্রাইজ পেট্রল পাম্প স্থানান্তরের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ব্যবসা-বাণিজ্য শাখায় আবেদন করেন। এজন্য ডিসি অফিসের কর্মচারী আজিজুল ইসলামের সঙ্গে ২০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন।

ফাইল ছাড়িয়ে নিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে টাকা লেনদেনের সময় ডিসির কার্যালয়ে দুদক অভিযান চালিয়ে আজিজুল ইসলামকে আটক করে।

দুদক পরিচালক শিরীন পারভিন অভিযোগ করেন, হামলা চালিয়ে ঘুষের ১০ হাজার টাকা ও জব্দকৃত কাগজ আজিজের সহযোগীরা নিয়ে গেছে। আত্মরক্ষার্থে আমরা জেলা প্রশাসকের অফিস রুমে যাই। এসময় দুদকের কনস্টেবল মিছবাহ উদ্দিন চৌধুরীর মাথা ফাটিয়ে দেয় কর্মচারীরা। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাংলাদেশ কালেক্টরেট সমিতির সিলেট জেলা সভাপতি আফসর আহমদ বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে জেলা প্রশাসকের অনুমতি না নিয়ে কাউকে আটক করা অন্যায়। আমরা এর প্রতিবাদ করেছি। তবে কারো উপর হামলার ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক যখন উভয়পক্ষ নিয়ে বৈঠক করছিলেন তখন অভিযুক্ত কর্মচারী আজিজুর রহমান স্ট্রোক করেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীনও হামলার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, হট্টগোল শুনে আমি দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। কিন্তু বৈঠকে দুদক কর্মকর্তারা ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেননি। কেবল একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তারা অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আমার কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালেই অভিযুক্ত কর্মচারী আজিজুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রুকন উদ্দিন আহমদ বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আটক করতে দুদক কর্মকর্তারা অভিযানে এসেছিলেন। এসময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের ঝামেলা হয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।
    
ছামির মাহমুদ/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।