বগুড়ায় অ্যাম্বুলেন্সও চলতে দিচ্ছে না শ্রমিকরা


প্রকাশিত: ১২:২৭ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

বগুড়ায় ধর্মঘট পালনের নামে সড়ক-মহাসড়কে লাঠিহাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। নিজেদের কর্মবিরতি পালনের কথা থাকলেও মঙ্গলবার ভোর থেকে লাঠি হাতে সড়ক-মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে রোগী পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদপত্রবাহী গাড়ি, স্কুলবাস থেকে শুরু করে রিকশা-ভ্যান চলাচলেও বাধা দেন তারা।
 
শ্রমিকদের বাধায় আটকা পড়ে রাতে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী কয়েক’শ দুরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তায় গাড়ি বের করে শ্রমিকদের মারধরের শিকার হন অনেক চালক। মহাসড়কে অটোরিকশা-ইজিবাইক, রিকশা-ভ্যান চলাচলেও বাধা দেন শ্রমিকেরা।
 
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়ার মাটিডালি, চারমাথা, তিনমাথা ও বনানী মোড় ঘুরে শ্রমিকদের বাধাদানের এমন চিত্র এবং মানুষের দুর্ভোগ দেখা গেছে।

Dhormoghot
সিলেট থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী ইউনাইটেড পরিবহনের একটি কোচে রওনা দিয়েছিলেন বেসরকারি সংস্থার কর্মী রতন সরকার। তিনি বলেন, সন্ধা সাড়ে সাতটায় যাত্রী নিয়ে এ কোচ দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। যাত্রীদের বেশির ভাগই শ্রমজীবী মানুষ। কেউ রিকশাচালক, কেউ নির্মাণ শ্রমিক। গোটা রাস্তা নির্বেঘ্নে এলেও বগুড়ার মাটিডালি আসার পর শ্রমিকেরা বাস আটকে রেখেছে। ভ্যানে বা অন্য বাহনে গন্তব্যে রওনা দেওয়ার সামর্থ কারো নেই। হুট করে এভাবে ধর্মঘট ডেকে যাত্রীদের অরাজকতার মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে।

লাঠিহাতে রাস্তায় নামা পরিবহন শ্রমিকদের অরাজকতার চিত্র শহরের চারমাথা টার্মিনাল এলাকাতেও। এখানে সকাল নয়টার দিকে শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে মুমূর্ষ রোগী বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্সটি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে চাইলেও শ্রমিকেরা তা আটকে দেন। চালককে গালিগালাজের পর শ্রমিক নেতাদের হস্তক্ষেপে প্রায় কুড়ি মিনিট পর অ্যাম্বুলেন্সটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখানে যান্ত্রিক যানবাহন ছাড়াও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান চলাচলেও বাধা প্রদান করা হয়।

শহরের তিনমাথা রেলগেট এলাকায় লাঠিহাতে অর্ধশত পরিবহন শ্রমিককে মহাসড়কে অবরোধ করতে দেখা গেছে। এখানে প্রাইভেটকার, পিকনিকের বাস, স্কুলবাস, অ্যাম্বুলেন্স আসা মাত্র চালককে লক্ষ্য করে লাঠিহাতে তেড়ে আসছিলেন শ্রমিকেরা। তারা চালকদের মারধর ও অপদস্থ করেন।

Dhormoghot
এসময় রংপুর অভিমুখি পিকনিকের দুটি মিনিবাস সেখানে এলে চালকদের নামিয়ে নেয়া হয়। পরে যানজট নিরসনে মাইকিং কাজের জন্য শ্রমিক-ছাউনীতে দুই চালককে নেয়ার পর নেতাদের উপস্থিতিতে বেধরক পেটানো হয়। শ্রমিকেরা এসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রংপুরগামী বিআরটিসির একটি বাস বগুড়ার ডিপোতে ফিরিয়ে দেন। মারধর করেন বেশ কয়েকজন গাড়ি চালককে। ভ্যান-রিকশা চলাচলে বাধা দিতে হাওয়া ছেড়ে দেন শ্রমিকেরা।

মহাসড়ক ছাড়াও বগুড়া শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যান চলাচলেও বাধা দেন ধর্মঘটী শ্রমিকেরা।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শহরের ফুলবাড়ি এলাকায় লাঠিহাতে থাকা একদল শ্রমিককে ইজিবাইক আটকাতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের রাজশাহী বিভাগের সভাপতি ও বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল লতিফ বলেন, বাসচালক জামির হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সড়ক দুর্ঘটনার দায়ে এক ট্রাকচালকের মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাহারের দাবিতে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে এই ধর্মঘট চলছে। দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট কর্মসূচি চলবে। ধর্মঘটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এতে কারো দুর্ভোগ হলে তাতে শ্রমিকদের কিছু করার নেই।

লিমন বাসার/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।