মেয়েকে হত্যাচেষ্টার পর মায়ের আত্মহত্যা
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূ নিজের ছয় বছরের শিশু কন্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে নিজেই গলা কেটে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার সকালে উপজেলায় ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের দাড়িদহ বাজারে শামস উদ্দিনের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।
সন্তান সম্ভাবা মা খাদিজা বেগম (৩২) আদমদিঘি উপজেলার কুশার ঘোপ গ্রামের আবু হাসানের স্ত্রী। গুরুতর জখম মেয়ে হালিমা আক্তার সোহানাকে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
সোহানা শিবগঞ্জের দাড়িদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
স্থানীয়রা জানান, এনজিও কর্মী আবু হাসান ২০০৭ সালে কাহালু উপজেলার পশ্চিম ভূগইল গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের মেয়েকে বিবাহ করেন। তিন বছর ধরে তারা শিবগঞ্জে দাড়িদহে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। খাজিদা বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক রোগে ভুগছিলেন। আবু হাসান দীর্ঘ তিন বছর ধরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা’র দাড়িদহ শাখায় মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। চাকরি সূত্রে হাসান শাশুড়ি আবেদা বেগমসহ পরিবার নিয়ে দাড়িদহ বাজারে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার খাদিজা তার মা আবেদা বেগমকে পানি আনার জন্য বাড়ির বাইরে পাঠায়। এ সময় তার স্বামী আবু হাসানও বাসার বাইরে ছিলেন। তার মা পানি আনতে গেলে খাদিজা ঘরের দরজা বন্ধ করে ধারালো হাসুয়া দিয়ে শিশু কন্যা সোহানাকে কোপানো শুরু করে। এ সময় সোহানার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘরের মধ্যে প্রবেশের চেষ্টা করলে খাদিজা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করে।
দরজা বন্ধ থাকায় লোকজন প্রবেশ করতে না পেরে ঘরের ভেতরের দেয়াল ভেঙে প্রবেশ করে খাদিজাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে শিশু সোহানাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
খাদিজার মা আবেদা বেগম জানান, খাদিজা নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। চলতি মাসেই তার সন্তান প্রসবের কথা ছিল। সে মানসিক ভারসাম্যহীন। মাঝে মধ্যেই সে সংসারের এটা ওটা ভাঙচুর করতো।
ঘটনার পর শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: কামরুজ্জামান, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জাহিদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন।
শিবগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জাহিদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে।
শজিমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ আলম জানান, শিশু সোহানাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তার নাকে ও ঘাড়ে দুটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আরএআর/পিআর