পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে হাজারো জেলে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭:০৯ এএম, ২০ মার্চ ২০১৭

ইলিশসহ অনান্য মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে পটুয়াখালীর তেতুলিয়া নদীসহ দেশের মোট পাঁচটি নদীকে মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করে মার্চ ও এপ্রিল এ দুই মাস সকল ধরনের মাছ ধরার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

তবে নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে এ এলাকার জেলেদর জন্য কোনো সরকারি সহযোগিতা না থাকায় কয়েক হাজার জেলে পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহার ও অনাহারে দিন পার করছেন।

জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলার চর রুস্তম থেকে ভোলা জেলার চর ভেদুরিয়া পর্যন্ত তেতুলিয়া নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয় আশ্রম ঘোষণা করে মার্চ ও এপ্রিল এ দুই মাস সকল ধরনের মাছ ধরা ও এই সময়ে মাছের বিচরণ ক্ষেত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন সব বিষয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার।

তবে নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে তেতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করে জিবীকা নির্বাহ করেন এমন ১০ হাজার জেলের জন্য নেই কোনো সরকারি সাহায্য সহযোগিতা। ফলে অনেক জেলেই পেটের তাগিদে বাধ্য হয়ে তেতুলিয়ায় মাছ শিকার করছেন।এতে  সরকারের অভয়াশ্রম ঘোষণার যে কার্যক্রম তা অনেকটাই ব্যার্থ হচ্ছে।

Jele

১৫নং চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরমেয়াজান গ্রামের জেলে জাহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, দশদিন অবরোধ দেছে মানছি। এর পরে আট দশদিন বাইছি তারপর এহন আবার দুই মাস বন্ধ দেছে। আমাগোর মানুষ বেতন কইরা রাহা আছে চার জন। প্রথমে কইছে নেটওয়ার জাল বন্ধ করছি।

অহন কিস্তি ছারাইয়া সুতার জালের সাভার করছি। মাছ ধরতে না পারলে কিস্তি দিমু ক্যামনে? হ্যাতে কিস্তির জ্বালায় আমরা ঘরে ঘুমাইতারি না। ভাত যে খামু হ্যাও খাইতারিনা। আমরা অহন প্যাডের দ্বায় রাইতে পলাইয়া পানতে জাল ভিজাই। যদি পুলিশে ধরে হ্যাও জেলখানায় দেয়।

পটুয়াখালী জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসনাত জাগো নিউজকে বলেন, বছরে এই দুই মাস এসব অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখলে ইলিশসহ অনান্য মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। জেলেদের জন্য সরকারি সহযোগিতার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

ইলিশের প্রজনন মৌসুম নিরাপদ রাখা, জাটকা নিধন বন্ধসহ মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে বর্তমান সরকারের যে বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে তাকে সফল করতে জেলেদের জন্য সরকারি সাহায্য সহযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি উপকূলীয় এলাকার জেলেদের।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।