চিকিৎসকের অবহেলায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু


প্রকাশিত: ১১:৫৪ এএম, ২৪ মার্চ ২০১৭

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় স্কুলছাত্রী রোকসানা আক্তারের (১২) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। উপজেলার নিরাময় হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ওই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়।

নিহত রোকসানা দেনায়েতপুর এলাকার সর্দার বাড়ির আবুল কাশেমের মেয়ে এবং দেনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ঘটনাটি মিমাংসা করেছেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে জানাজা শেষে ওই ছাত্রীকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

রোকসানার ভাই মো. হাছান জানান, জ্বর ও পেট ব্যাথার কারণে রোকসানাকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর ফেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডা. মো. ইকবাল হোসেনকে দেখানো হয়। এ সময় তিনি রোগীকে কিছু ওষুধ লিখে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ  দেন। পরে রাত ৯টার দিকে রায়পুর শহরের নিরাময় হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাকে এনে ডা. মো. মোরশেদ আলম হিরুকে দেখালে তিনি শ্বাসকষ্টের জন্য অক্সিজেন দিতে বলেন।

এরপর আধাঘণ্টা পার হলেও রোগীর কোনো খোঁজ-খবর ও অক্সিজেন না দিয়ে তাকে বেডে ফেলে রাখা হয়। এতে রোগীর অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে ডা. মোরশেদকে অক্সিজেন দেয়ার জন্য হাতে-পায়ে ধরে আকুতি জানানো হয়। এর কিছু সময় পরেই রোকসানা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রীর মৃত্যুর পর স্বজনরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির সামনের অংশ বন্ধ করে দিয়ে চিকিৎসক ও সেবিকারা পালিয়ে যায়। এ সময় উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালটি ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পরে রায়পুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় হাসপাতাল ভবনের মালিক মিজানুর রহমান মুন্সিকে থানায় নিয়ে আসা হয়।

দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। পরে ২৫ হাজার টাকা নিহতের পরিবারকে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নিহতের বাবা আবুল কাশেম টাকা পেয়েছেন।

এ ব্যাপারে ডা. মো. মোরশেদ আলম হিরু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগী দেখেই স্বজনদের ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়। তাকে এখানে ভর্তিও করা হয়নি। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ কাল্পনিক।

রায়পুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না করায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।

কাজল কায়েস/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।