ছেলেকে পেয়ে কাঁদলেন মা


প্রকাশিত: ০৩:৫০ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৭

খেলার ছলে ১০ বছর বয়সে পথ হারিয়ে ট্রেনে উঠে অজানা পথের পথিক হয় শিশু ইনামুল হক। এরপর ট্রেন থেকে নেমে দালালের খপ্পরে পড়ে ভারতে পাচার হয়ে যায় সে। ভাগ্য ভালো হওয়ায় ভারতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জেল খানায় ঠাঁই হয় তার।

এরপর সেখানে দীর্ঘ চার বছর তিন মাস জেল খেটে দুই দেশের সীমান্ত কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ও চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হানেফ উদ্দিনের উদ্যোগে শনিবার বিকেলে ইনামুল তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

ইনামুল উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের কৃষক সিহাব উদ্দিনের ছেলে। যখন শিশু ইনামুলকে তার বাবা মায়ের নিকট হস্তান্তর করা হচ্ছিল, তখন তার বাবা-মাসহ স্থানীয়রা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। আদরের সন্তানকে বুকে নিয়ে অঝোরে কেঁদে উঠেন মা।

ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হানিফ উদ্দিন জানান, ইউনিয়নের কদমতলী গ্রাম থেকে চার বছর আগে সিহাব আলির ছেলে শিশু ইনামুল হারিয়ে যায়। এতোদিন পার হয়ে গেলেও কোনো জনপ্রতিনিধি বা তেমন কেউই ছেলেটার কোনো খোঁজ খবর দিতে পারেনি।

সর্বশেষ কিছু দিন আগে জানতে পারলাম ছেলেটি ভারতের জেল খানায় বন্দী আছে। ঠিক তখন থেকেই আমি ছেলেটিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। ছেলেটির মা প্রায়ই আমার কাছে এসে কান্নাকাটি করতো তার ছেলেকে ভারতের জেল থেকে মুক্ত করে আনতে।

তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার যখন জানতে পারলাম ছেলেটিকে ভারত থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুরের হাকিমপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে তখন আমাদের পরিষদের সদস্য সবুজ আলিকে সেখানে পাঠিয়ে দেয়। অবশেষে শিশু ইনামুলকে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমারও খুব ভালো লাগছে।

শিশু ইনামুলকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ মাস্টার, জেলা পরিষদের সদস্য সাইদুল ইসলাম পলাশ, ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হানিফ উদ্দিন প্রমুখ।

একে জামান/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।