কালবৈশাখীর তাণ্ডবে পাবনায় ৫ শতাধিক বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত


প্রকাশিত: ০৮:৫০ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৭

পাবনার সাঁথিয়া এবং সুজানগর উপজেলার ৫টি গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে পাঁচ শতাধিক বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়ে ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয়েছে। সুজানগর উপজেলার আমিনপুর থানার আহাম্মদপুর ইউনিয়নের দুইটি গ্রাম ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এতে শিশুসহ কমপক্ষে ৩০০ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন।

এছাড়া পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ৩৩ কেভি লাইনের খুটি ভেঙে, বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে এবং দুটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অসংখ্য গাছপালা ও হাজার হাজার মণ রশুন ও পেঁয়াজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

pabna

স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর (দপপাড়া) ও বদনপুর গ্রামের ওপর দিয়ে আকস্মিকভাবে প্রায় ২০ মিনিটের স্থায়ী কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে চরগোবিন্দপুর গ্রামের টিনের বসত ঘরসহ আধাপাকা ২০টি, ৩০টি গোয়ালঘর ও ৩০টি রান্না ঘরসহ প্রায় তিন শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধস্ত হয়। ঘর ও গাছ চাপা পড়ে ওই গ্রামের কমপক্ষে ১৫০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে নজরুল প্রাং (৪৫), রফিক প্রাং (৩৫), তোফাজ্জল (৪০), লেবু সেখ (৬০), মনোয়ারা খাতুন (৫৫), রাজ্জাক (৪০), বিল্লাল (৩৫), দেলোয়ার (৩০), বাচ্চু প্রাং (৫৫), মসলেম প্রাং (৪৫), আকলিমা (৪০), হামিদ প্রাং (৪৫), স্বপন প্রাং (৩২), সাত্তার প্রাং (৪০), ফজলু (৩৫), আজাহার আলী (৪৮), আলহাজ্ব হোসেন আলী (৬০), আব্দুর রাজ্জাক (৪০), আব্দুল আলীম (৪৫), জানু সেখ (৪০), হেলাল (৩৫), বারেক সেখ (৫০), শাহ আলম (৩৫), সাঈদ সেখ (৪৫), সুমন সেখ (৪০), মান্নান সেখ (৫৫), রুবেল সেখ (২৫), রবিউল ইসলাম (১৪), হানিফ সেখ (৫৫), আব্দুল হামিদ (৭০), জামায়াত আলী সেখ (৪৭), হবিবর রহমান প্রাং (৭৫), হাশেম আলী (৩৫), ইশরাত (২৫), হালিমা বেগম (৬০), রহমান প্রাং (৩০), কাশেম প্রাং (২৫), আব্দুল বাতেন (৩০), আক্কেম আলী সেখ (৪৫), আফাজ সেখ (৬৫) আমিন মোল্লা (৬৫), বক্কার প্রাং (৫৫), বিপুল প্রাং (৩০), রব্বান মোল্লাকে (৪৫) পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

pabnajhor

এছাড়া সাঁথিয়া উপজেলার মিয়াপুর মোল্লাপাড়া, রসুলপুর ভাটুপাড়া, চিনাখড়া গ্রামে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। এসব এলাকায় ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

পাবনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, ঝড়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৪০ টি স্পটে তার ছিঁড়ে গেছে। ১০টি খুঁটি ভেঙে গেছে এবং ৫০০ টি মিটার ভেঙে ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। ফলে কয়েক গ্রামে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

pabnajhor

আহাম্মদপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একটি টিনও ব্যবহার উপযোগী নেই। এমতাবস্তায় সরকারের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৫০০ বান্ডিল টিন বরাদ্দ দেয়া হলে তারা অন্তত ঘর মেরামত করে বসবাস করতে পারবে। এ ব্যাপারে তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মঙ্গলবার সকালে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণের কাজ চলছে।

সরকারের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্তরা কোনো সহযোগিতা পাবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঝড় তো নোটিশ দিয়ে আসেনি যে আমরা আগে থেকেই সহায়তার হাত প্রসারিত করে রাখবো।

একে জামান/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।