কিশোরগঞ্জে পানির নিচে ২৫০ কোটি টাকার ধান
ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে সাধারণত কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠতে শুরু করে আনন্দের বার্তা। আর ক’দিন পরই ক্ষেতের সোনালী ধান আসবে কৃষকের ঘরে। ধান বিক্রির টাকায় শোধ হবে মহাজনের ঋণ। ঘুচবে পরিবারের অভাব।
ঠিক সেই সময় চৈত্রের অকাল বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে হাজার হাজার কৃষকের কষ্টে লালিত স্বপ্ন-স্বাধ-আহ্লাদ! চোখের সামনে প্রতিদিন তলিয়ে যাচ্ছে একরের পর একর বোরো ক্ষেত। বাধঁ ভেঙে আর উঁচলে পানি ঢুকছে নতুন নতুন এলাকায়। তাই কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরে এখন শুধুই কৃষকের কান্না আর হাহাকার।
হাজার হাজার কৃষক পরিবার দিনরাত চেষ্টা করছেন ফসল রক্ষা বাঁধ রক্ষা করতে। কিন্তু প্রবল বেড়ে ধেয়ে আসছে পাহাড়ি ঢল। সেই সঙ্গে অবিরাম বৃষ্টি কৃষকের সব চেষ্টা বিলীন করে দিচ্ছে।
গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে অন্তত ৩০ হাজার হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে জেলার তিনটি হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম এবং আংশিক হাওর নিকলী ও করিমগঞ্জ উপজেলার অন্তত তিনভাগের একভাগ জমি এরই মধ্যে পানিতে ডুবে গেছে।
সরকারি হিসেবেই আজ সোমবার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ হচ্ছে ২৪ হাজার ৭৬০ হেক্টর। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ৫০ হাজার হেক্টর জমি। পানিতে ডুবে বিনষ্ট হয়ে গেছে এক লাখ মে. টন চাল। নতুন চালের দাম উৎপাদনকালীন সময়ে ২২ টাকা কেজি ধরলেও এতে ক্ষতি হয়েছে ২৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
টানা বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও পাহাড়ি ঢলে অকাল বন্যায় জেলার ইটনা উপজেলার বর্শিকুড়া গ্রামের মেন্দার বাঁধ ভেঙে বড়িবাড়ি ও বাদলা ইউনিয়ন, অষ্টগ্রামের আবদুল্লাপুর, আদমপুর, কলমা, পূর্ব অষ্টগ্রাম, অষ্টগ্রাম সদর, কাস্তল, দেওঘর, বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন ও মিঠামইনের ঢাকী, বৈরাটি, কেওয়ারজোড়, কাটকাল ও ঘাগড়া ইউনিয়ন, বিজয়ের বাঁধ ভেঙে জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন ও সিঙ্গার বাঁধ ভেঙে মৃগা ইউনিয়ন, নিকলীর সিংপুর ইউনিয়নের সরাইল বাঁধ ভেঙে সিংপুর ও করিমগঞ্জের সূতারপাড়া ইউনিয়নের প্রয়াগ বিলের বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। শুক্রবারও ইটনায় একটি বাঁধ ভেঙে অন্তত ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নিকলী , বাজিতপূর ও করিমগঞ্জে সোমবার পর্যন্ত ২৪ হাজার ৭৬০ হেক্টর বোরো জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
এবার কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এসব জমিতে প্রায় ৬ লাখ মে. টন চাল উৎপাদন হতো।
এমএএস/এমএস