চাঁদপুর সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা


প্রকাশিত: ০৪:১৭ এএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৫

দেশের বৃহত্তর চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হাজীমারা স্লুইচ গেইটের (রেগুলেটর) বাইরের মুখে পলি মাটি জমাট বাঁধায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে করে একদিকে যেমন জাহাজ ও কার্গোসহ নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে তেমনি লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে ইজারাদারদের।

এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে ফসলহানির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন হাজার হাজার কৃষক। বিগত বছরগুলোতে সিডর ও আইলাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত বেড়ি বাঁধের ভেতরের পানি নেমে যাওয়ায় তেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি কৃষক।

রায়পুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পাউবো’র অধীনে ১৯৬৩-১৯৭৮ সাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরের ৬টি উপজেলার ১০০কিলোমিটার এলাকা নিয়ে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এ প্রকল্পের ভিতরে লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, চাঁদপুর সদর, হাইমচর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৫৩.৩৬৩ হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। প্রকল্পের পানি নিষ্কাশনের জন্য হাজীমারা এলাকায় অত্যাধুনিক স্লুইচ গেইট নির্মাণ করা হয়।

হাজীমারা এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন বছর ধরে স্লুইচ গেইটের বাইরে পলি মাটি জমাট বাঁধতে শুরু করেছে এবং নদীর মধ্যে চর জেগে ওঠেছে। গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দে স্লুইচ গেইটের ভেতরে ও বাইরের অংশে ড্রেজিং করার কথা থাকলেও শুধু ভেতরের অংশের মাটি অপসারণ করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে বাইরের অংশে ড্রেজিং করা হয়নি। এতে করে স্লুইচ গেইটের বাইরের অংশে ভাটার সময় নদী সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। লোকজন নদীর ওপর দিয়ে চলাচল করে। ফলে নদীতে কার্গো, নৌকা, জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) গিয়াস উদ্দিন কামাল জানান, জরুরি ভিত্তিতে নদী ড্রেজিং করা দরকার। স্লুইচ গেইটের সামনের নদীতে পলি জমাটের কারণে জেলেরা নদীতে যেতে পারে না। এ কারণে অনেককে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। ২-১টি কার্গো জোয়ারের সময় স্লুইচ গেইট পার হতে পারলেও মালামাল ও ইট বোঝাই কার্গোসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্লুইচ গেইট ইজারাদার মো. মান্নান বলেন, বর্তমানে স্লুইচ গেইট দিয়ে নৌকা, জাহাজসহ সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমি যে টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছি তার অর্ধেকও টাকাও উঠেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রায়পুর কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে টেন্ডারের মাধ্যমে পলি মাটি অপসারণের কাজ করা হবে।

এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।