নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প আঁধারে


প্রকাশিত: ০৩:৪১ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৫

১০ বছরেও অনুমোদন পায়নি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরলক্ষী গ্রামের নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পটি। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) লক্ষ্মীপুর বিভাগীয় কার্যালয় থেকে দুইবার এ প্রকল্প তৈরি করলেও এ সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এতে ভাঙছে নদী, বাড়ছে ক্ষতি। এ নিয়ে ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া শত-শত ভূমিহীনের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

লক্ষ্মীপুর পাউবোর বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০০০ সালে ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদানের জন্য হাজীমারা-চররমনী বেড়িবাধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। নির্মাণের শুরুতে বেড়ি বাধ থেকে ১ কিলোমিটার দূরে মেঘনার অবস্থান ছিল। তখন নদী ভাঙনের লক্ষণ ছিল না। ২০০৫ সালে চরলক্ষী গ্রাম এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙন শুরু হয়। নদী ভাঙনের শুরুতে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য পাউবোর লক্ষ্মীপুর বিভাগীয় কার্যালয় থেকে ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়। তা অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু ৭ বছর অতিবাহিত হলেও প্রকল্পটি অনুমোদন হয়নি। নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে আগামী ১ বছরের মধ্যে হাজিমারা-চররমনি বেড়িবাধটি মেঘনা নদীর গর্ভে চলে যাবে।

ইতোমধ্যে ভাঙনের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙ্গন প্রতিরোধসহ প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে ওই দপ্তর থেকে আবার ২০০৭-০৮ অর্থ বছরের ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যায়ে প্রকল্প তৈরী করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পাঠানো হয়।

দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হাওলাদার বলেন, স্থানীয় এমপি ও সরকারে পানি সম্পদ মন্ত্রীসহ অনেক কর্মকর্তা সরেজিমন এসে নদী ভাঙনের চিত্র দেখেছেন। কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা না নেয়া এ পর্যন্ত চার বছরে প্রায় ৮০ একর আবাদী জমি ও শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে।


তিনি আরো জানান, ভাঙনে চরকাছিয়া গ্রাম তলিয়ে গেলে, ভূমিহীন হয়ে পড়বে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ। এছাড়াও চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বেড়িবাধটি নদী ভাঙনের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে।

মো. রশিদ মালের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়েছে নদী। এক সময় গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু ছিল তার। কিন্তু নদীর ভাঙনে আজ তিনিও পথের ভিখারি। চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বেড়ি বাধের পাশে ঝুপড়ি ঘর এখন তাদের ঠিকানা।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, উপজেলা ৮নং চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রামের মোবারক হোসেন, গনি হাওলাদার, মো. রশিদ মাল, আক্কাছ হাওলাদার, হাবিব উল্যা, হাসমত আলী দেওয়ান ও জাকির দেওয়ানসহ ১০টি পরিবারের ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে কাদির হাওলাদার, শুকুর আলী সর্দার, ওসমান বেপারি, জলিল সরকারের বাড়িসহ ২০টি পরিবার।

যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রায়পুর কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) ইদ্রিস আলী জাগো নিউজকে বলেন, ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। ভাঙনের তীব্রতা এবার বেশি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এমজেড/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।